আমির হামজাকে নিয়ে রাশেদ খানের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস

ওয়াজ মাহফিলে ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট কাজে লাগিয়ে জীবননাশের হুমকি ও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে সাবেক জামায়াত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান।

May 24, 2026 - 13:30
 0  3
আমির হামজাকে নিয়ে রাশেদ খানের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস
×

ওয়াজ মাহফিলের মতো ধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট উস্কে দেওয়া এবং নিজেকে ‘হত্যাযোগ্য’ করে তোলার চেষ্টা করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান। সাবেক জামায়াত সংসদ সদস্য (এমপি) ও ইসলামি বক্তা আমির হামজার বিরুদ্ধে এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে নিজের জীবননাশের আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

​আজ রোববার (২৪ মে) দুপুরে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ ও বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে মুহাম্মদ রাশেদ খান এই অভিযোগ করেন। পাঠকদের জন্য তাঁর ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

​"জামায়াত এমপি আমির হামজা আমাকে হত্যাযোগ্য করে তোলার জন্য ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দিয়েছে! ইতোপূর্বে ওয়াজ মাহফিলে আমির হামজা বলেছিলেন, ‘তার চোদ্দগুষ্টি আওয়ামীলীগ। শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখেছে, সেটি বাস্তবায়নে যে কাজ করবেনা, সে যে দলেরই হোক, সে জাহান্নামে যাবে।’

​ফ্যাসিবাদের এই দোসরের এসব অপকর্ম টকশোতে তুলে ধরার জন্য সে হয়ত আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়েছে। রাজনৈতিক ময়দান থেকে যদি আমির হামজা আমার বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দিতো, সেটাকে রাজনৈতিকভাবেই দেখতাম। কারণ আমি জানি, political কর্মীরা এসব বক্তব্যকে রাজনৈতিক হিসেবে নেয়। কিন্তু ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট কাজে লাগিয়ে ওয়াজ মাহফিলে আমার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া আমার জীবনের জন্য থ্রেট।

​তার এই বক্তব্যের পরে আমির হামজার উগ্রবাদী সমর্থক গোষ্ঠী আমার উপর মব (Mob) করতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। যদি আমার কোনো ক্ষতি হয়, এর দায় আমির হামজাকে নিতে হবে।"

প্রেক্ষাপট ও রাশেদ খানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার:

মুহাম্মদ রাশেদ খান মূলত ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে রাজপথের রাজনীতিতে দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে নতুন রাজনৈতিক দল 'গণঅধিকার পরিষদ' গঠনে তিনি অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।

​তবে রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে গত ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর তিনি গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ ও দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের বহুল আলোচিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। টকশোতে দেওয়া বক্তব্য ও নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেই এই বাকযুদ্ধ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।