তেলের অভাবে থমকে গেছে মতি মৃধাদের জীবন
বরগুনায় তীব্র জ্বালানি সংকটে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালকদের নাভিশ্বাস; আয় বন্ধ হওয়ায় কিস্তি ও পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে মতি মৃধাসহ শত শত চালক।
সারাদেশের মতো বরগুনায় তীব্রতর হয়ে উঠেছে জ্বালানি তেলের সংকট। এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে জেলার ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালকদের জীবনে। তেলের অভাবে মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডে নিতে না পেরে ঘরে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন অনেক চালক। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের ভরণপোষণ এবং এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
মতি মৃধার আর্তনাদ ও পারিবারিক সংকট
বরগুনা সদর উপজেলার কালিরতবক এলাকার মতি মৃধা একজন ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক। গত ১৫-১৬ দিন ধরে তেল সংকটে তার আয় প্রায় শূন্য। মতি মৃধা বলেন, “বাসার সামনে গাড়ি হালাইয়া (ফেলে) রাখছি। মোটরসাইকেল পাম্পে নেতে ৫০০ টাহা খরচ হয়, কিন্তু তেল পামু ২০০ টাহার। এহন প্রায় না খাইয়া মরার পালা, কিন্তু কিস্তিয়ালারা হেই কথা হোনে না।”
তার স্ত্রী পারুল বেগম জানান, ঘরে বাজার নেই, ছেলের মাদ্রাসার খরচ দিতে পারছেন না। সামাজিক মর্যাদার কারণে কারো কাছে সাহায্যও চাইতে পারছেন না তারা। তাদের একমাত্র দাবি, দ্রুত তেলের সমস্যার সমাধান করে কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
স্ট্যান্ডগুলোতে হাহাকার
বরগুনা পৌরশহরের মাদ্রাসা সড়কসহ বিভিন্ন স্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র:
সোহরাব শরীফ (চালক): একবার ট্রিপ দিয়েই পাম্পে গিয়ে শোনেন তেল নেই। এখন গাড়ি নিয়ে বসে আছেন অনিশ্চয়তায়।
মিরাজ মিয়া (চালক): তেলের অভাবে আয় কমে যাওয়ায় সংসার চলছে না। বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীদের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডা হচ্ছে।
আব্দুর রহিম (সভাপতি, স্ট্যান্ড কমিটি): পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রাত জেগে মাত্র ২০০ টাকার তেল পাওয়া যায়, যা দিয়ে দুইবারের বেশি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হয় না।
প্রশাসনের উদ্যোগ ও আশ্বাস
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বরগুনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল জানিয়েছেন:
ফুয়েল কার্ড: সদর উপজেলায় ইতিমধ্যে ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে এবং অন্যান্য উপজেলায়ও এটি চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
মনিটরিং: ট্যাগ অফিসার ও ম্যাজিস্ট্রেটরা পাম্পগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করছেন যাতে কেউ নির্ধারিত মূল্যের বেশি নিতে না পারে।
বিশেষ ব্যবস্থা: ভাড়ায়চালিত চালকরা তাদের সমস্যার কথা সুনির্দিষ্টভাবে প্রশাসনকে জানালে তাদের নিয়ে বসে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা কাটবে কবে, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন বরগুনার শত শত পরিবহন শ্রমিক।


