উচ্চহারে তেল ও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

জ্বালানি তেলের পর এলপিজি গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ; জনগণের ওপর বোঝার চাপ না বাড়িয়ে দাম পুনর্বিবেচনার আহ্বান।

Apr 20, 2026 - 11:38
 0  5
উচ্চহারে তেল ও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
×

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরদিনই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির (LPG) অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে এক বিবৃতিতে দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, উচ্চহারে তেল ও এলপিজির এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এলপিজির বাড়তি চাপ ও মুদ্রাস্ফীতি

​বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানান, এক লাফে এলপিজির দাম ১৭ টাকা ৬২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে সিলিন্ডার প্রতি গ্রাহককে আগের চেয়ে ২১২ টাকা বেশি গুনতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন:

​এপ্রিলের শুরুতেও একবার দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়েছিল।

​শহরের সিংহভাগ মানুষ রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এটি সরাসরি জনজীবনে চাপ তৈরি করবে।

​জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

আইএমএফ ও সরকারের নীতিগত সমালোচনা

​অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা করে মুখপাত্র বলেন, আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে সরকার ব্যয় কমানোর সহজ পথ হিসেবে সবসময় জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেয়। অথচ রাজস্ব আয় বৃদ্ধির বিকল্প ও কার্যকর পথে হাঁটছে না সরকার। তিনি বলেন, “জ্বালানির দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়লে দৃশ্যত তা কম মনে হতে পারে, কিন্তু এর বহুমাত্রিক প্রভাব নাগরিককে প্রতিটি কেনাকাটায় বাড়তি অর্থ প্রদানে বাধ্য করে।”

নীতিমালার দাবি ও পুনর্বিবেচনার আহ্বান

​বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়:

১. সমমূল্য নীতি: বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে যদি দেশে বাড়ানো হয়, তবে বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও দাম কমানোর স্বচ্ছ নীতিমালা থাকতে হবে।

২. বাজার নিয়ন্ত্রণ: জ্বালানির দাম বাড়ার সুযোগ নিয়ে বাজারে যে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি ঘটে, তা কমানোর দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।

৩. জনস্বার্থ: জনগণের ওপর বোঝার চাপ বাড়িয়ে সংকট সমাধানের পথ পরিহার করে মানুষের কষ্ট লাঘবের ব্যবস্থা করতে হবে।

​পরিশেষে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম পুনরায় বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।