অতীতের ফ্যাসিবাদ থেকে আগামীর ফ্যাসিবাদ হবে আরও ভয়াবহ: ডা. শফিকুর রহমান
গণভোটের রায় অস্বীকার এবং বিচার বিভাগ ও প্রশাসনে দলীয়করণের মাধ্যমে দেশে নতুন ও ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ কায়েম হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, যেদিন গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই দেশে নতুন ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানের এই ফ্যাসিবাদ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জেলা আমির সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচার বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের নিরপেক্ষ অধ্যাদেশ ঠেকিয়ে দিয়ে পুনরায় দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “দলীয় ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের ফলে অতীতে বিচারপতি খায়রুল হক বা শামসুদ্দিন মানিকের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে, যার কুফল দেশবাসী এখনও ভোগ করছে।” একইসঙ্গে তিনি পিএসসি ও ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে বলে দাবি করেন।
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং নিয়ে প্রশ্ন
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন:
মিথ্যাচার: সরকার বলছে তেলের সংকট নেই, অথচ মানুষ ড্রাম ভর্তি তেল উদ্ধার হতে দেখছে।
লোডশেডিং: যদি সংকট না থাকে, তবে প্রতিদিন ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং কেন হচ্ছে?
ব্যর্থতা: সংকট মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ না করে সরকার মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সিভিল প্রশাসন ও সামাজিক নৈরাজ্য
প্রশাসনের সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের ওএসডি বা ডাম্পিং প্লেসে পাঠিয়ে মেধার অপচয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, উপাচার্যদের ঘনঘন পরিবর্তন, দুদকের নিষ্ক্রিয়তা এবং বিচারকদের ওপর নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে দেশে মহা নৈরাজ্য চলছে। এমনকি মানবাধিকার কমিশন পদত্যাগ করে খোলা চিঠির মাধ্যমে এই পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
কার্ড বিতরণে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে চরম দলীয়করণ হচ্ছে। এমনকি এক বিধবাকে কার্ড দেওয়ার নামে জীবন নষ্ট করার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি ও লাগামহীন চাঁদাবাজির কারণে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান
পরিশেষে ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে ভুল পথ থেকে বেরিয়ে এসে গণভোটের ফলাফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ফ্যাসিবাদমুক্ত শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করব, কিন্তু জনগণের ওপর নতুন করে ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”


