মোবাইল ও ‘বেয়াদবি’ ইস্যুতে জামিয়া নূরিয়ার দাওরার সব ছাত্র বহিষ্কার
মোবাইল ব্যবহার ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে টঙ্গী জামিয়া ইসলামিয়া নূরিয়া মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সকল শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার; কওমি মাদরাসা অঙ্গনে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত।
মোবাইল ব্যবহার ও গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া নূরিয়া মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীকে একযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শফী কাসেমী নদভী।
ঘটনার সূত্রপাত ও মোবাইল চেকিং
জানা গেছে, সম্প্রতি মাদ্রাসায় আকস্মিক মোবাইল চেকিং পরিচালনা করা হয়। এ সময় দাওরার শিক্ষার্থীরা আগে থেকে টের পেয়ে মোবাইল লুকিয়ে ফেলে। অন্যান্য জামাতের শিক্ষার্থীদের কাছে মোবাইল পাওয়া গেলেও তারা শৃঙ্খলা বজায় রাখায় তাদের বিরুদ্ধে বড় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে দাওরার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের সাথে অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে।
দরস বর্জন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি
অভিযোগ উঠেছে, দাওরার শিক্ষার্থীরা মাগরিবের সময় বুখারী শরীফের গুরুত্বপূর্ণ দরস বর্জন করে দারুল হাদিস (ক্লাস রুম) কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন দাবিতে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে দেয়। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বারবার ভুল স্বীকার করে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।
বহিষ্কারের কারণ ও প্রেক্ষাপট
মাওলানা শফী কাসেমী নদভী তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান:
নজিরবিহীন পদক্ষেপ: আসাতিজায়ে কেরামের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিগত বছরের প্রভাব: বহিষ্কৃত এই গ্রুপটি গত বছরও একটি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, যা মাদ্রাসার সামগ্রিক শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল।
মূল লক্ষ্য: দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য আদব-আখলাক ও বিশুদ্ধ ইলম শিক্ষা দেওয়া। শিক্ষার্থীরা বারবার সুযোগ পেয়েও শৃঙ্খলা মানতে ব্যর্থ হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান অবস্থা ও প্রতিক্রিয়া
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করলেও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এখনও বহাল রয়েছে। দাওরায়ে হাদিসের মতো সর্বোচ্চ স্তরের সকল শিক্ষার্থীকে একসাথে বহিষ্কারের ঘটনায় কওমি মাদরাসা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করছেন।


