কাশিয়ানীতে গভীর রাতে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে গভীর রাতে শিশুকে প্রস্রাব করাতে বাইরে বের হয়ে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ; অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা পলাতক, থানায় মামলা দায়ের।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে গভীর রাতে নিজ বাড়িতে এক গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) দিবাগত রাতে উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নের বড়বাহিরবাগ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে প্রতিবেশী হাফিজ মোল্যাকে (৩৫) অভিযুক্ত করে কাশিয়ানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ওই গৃহবধূর স্বামী বড় সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ছিলেন। বাড়িতে ওই নারী তার দুই বছর বয়সী ছোট সন্তানকে নিয়ে একাকী ছিলেন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে শিশু সন্তানকে প্রস্রাব করানোর জন্য তিনি ঘরের বাইরে বের হলে ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী হাফিজ মোল্যা তাঁর মুখ চেপে ধরে এবং জোরপূর্বক ঘরের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করে।
আলামত উদ্ধার ও অভিযুক্তের পলায়ন
ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে তাঁর ভাসুরের ছেলেসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা দ্রুত পালিয়ে যান। তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি, চাবি ও প্যান্ট ফেলে যান তিনি, যা পুলিশ আলামত হিসেবে জব্দ করেছে। অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা ওই গ্রামের আবুল মোল্যার ছেলে এবং তিনি দুই সন্তানের জনক বলে জানা গেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও অভিযান
কাশিয়ানী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ তাজ উদ্দিন আহমেদ মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলা করেছেন এবং তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে রয়েছে।”
বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সাংবাদিকরা অভিযুক্তের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং বর্তমানে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।


