হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত: বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলো কত?
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান; ফলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯.১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমেছে।
দীর্ঘ উত্তেজনার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিয়েছে ইরান। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরণের পতন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় পর ব্রেন্ট ক্রুড এবং ইউএস অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
তেলের বাজারের বর্তমান চিত্র
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিন শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯.১ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেল ৯০ ডলার ৩৮ সেন্টে স্থির হয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বাধা দূর হওয়ায় তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে।
যুদ্ধবিরতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে ওয়াশিংটন এখনও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর তাদের নৌ-অবরোধ বহাল রেখেছে। উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল।
ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে তাদের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখে, তবে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।” এই হুঁশিয়ারির কারণে তেলের বাজারে একটি প্রচ্ছন্ন অস্থিরতা এখনও বিদ্যমান।
বৈশ্বিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি খোলা থাকা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। যদি অবরোধ নিয়ে পুনরায় উত্তেজনা বাড়ে এবং ইরান পথটি বন্ধ করে দেয়, তবে তেলের দাম আবারো ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।


