তেলের দাম বৃদ্ধি জীবনযাত্রাকে আরো দুরহ ও কঠিন করে তুলবে; বিকল্প উপায় বের করুন : পীর সাহেব চরমোনাই
তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপের তীব্র সমালোচনা করে সরকারকে বিকল্প পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বৈশ্বিক সমস্যার বোঝা জনগণের ওপর না চাপিয়ে সরকারকে বিকল্প সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান।
জীবনযাত্রায় প্রভাব ও জনদুর্ভোগ
বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম এবং যাতায়াত খরচ সরাসরি জড়িত। লিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর একটি বিশাল বোঝা। তিনি বলেন:
তেলের দাম বাড়লে সবকিছুর দাম বাড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর।
বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় জনগণের ওপর এই বাড়তি বোঝা চাপানো একটি সহজ ও একপাক্ষিক পন্থা।
নিম্ন ও মধ্যবিত্তকে ‘বলির পাঁঠা’ না বানিয়ে সরকারের উচিত বিকল্প উদ্ভাবনী পথে মনোযোগী হওয়া।
বাজার সিন্ডিকেট ও তদারকির অভাব
পীর সাহেব চরমোনাই একদল অসাধু ব্যবসায়ীর অপতৎপরতা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “অসৎ ব্যবসায়ীরা তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে আনুপাতিক হারের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবৃদ্ধি করে জনজীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে।” তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারের তদারকি ও দক্ষতার অভাবেই এই চক্রটি অতীতে সফল হয়েছে।
প্রশাসনের প্রতি বিশেষ আহ্বান
বিবৃতিতে তিনি সরকারের প্রতি কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন:
১. নজরদারি বৃদ্ধি: প্রশাসনের সকল শক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা।
২. অসৎ ব্যবহার রোধ: তেলের মূল্যবৃদ্ধির নাম করে কেউ যেন কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে।
৩. বিকল্প অনুসন্ধান: কেবল দাম বাড়িয়ে নয়, বরং সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং অন্যান্য উপায়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, জনজীবনকে সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো কল্যাণকর রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে না। তিনি অবিলম্বে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।


