বিএনপির কিছু সংখ্যক কর্মী 'কুলাঙ্গার' শব্দের অর্থ ঠিকমতো উপলব্ধি করতে পারেনি: রাশেদ প্রধান

তারেক রহমানকে নিয়ে 'কুলাঙ্গার' মন্তব্য করায় দেশজুড়ে বিএনপির প্রতিবাদের মুখে দুঃখ প্রকাশ করলেন জাগপা নেতা রাশেদ প্রধান; তবে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানে অনড়।

Apr 18, 2026 - 17:26
 0  3
বিএনপির কিছু সংখ্যক কর্মী 'কুলাঙ্গার' শব্দের অর্থ ঠিকমতো উপলব্ধি করতে পারেনি: রাশেদ প্রধান
×

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে ‘কুলাঙ্গার’ শব্দ ব্যবহারের ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। তিনি দাবি করেছেন, বিএনপির অনেক কর্মী শব্দটির প্রকৃত অর্থ বুঝতে না পারায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক

​রাশেদ প্রধান বলেন, গত ১৫ এপ্রিল একটি আলোচনা সভায় তিনি তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে ‘কুলাঙ্গার’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার তারেক রহমানের নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও এবারই প্রথম তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তিনি বলেন, “আগের বক্তব্যের সাথে গত ১৫ এপ্রিলের বক্তব্যের পার্থক্য মাত্র একটি শব্দ, সেটি হলো ‘কুলাঙ্গার’। সম্ভবত অর্থ না বোঝার কারণেই কর্মীদের মাঝে এত উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।”

​'কুলাঙ্গার' শব্দের ব্যাখ্যা ও দুঃখ প্রকাশ

​সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ প্রধান আভিধানিক অর্থ তুলে ধরে বলেন, “কুলাঙ্গার অর্থ হলো কুলের কলঙ্ক বা এমন ব্যক্তি যার কর্মের ফলে বংশ অপমানিত হয়। আমি মনে করি তারেক রহমান তাঁর পিতামাতার (জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া) আদর্শ বিসর্জন দিয়ে তাদের সম্মান নষ্ট করেছেন।” তবে কর্মীদের প্রতিক্রিয়ার কথা মাথায় রেখে তিনি বলেন, “যেহেতু কর্মীরা এই শব্দে কষ্ট পেয়েছেন, তাই আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতে এই শব্দটি আর ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”

রাজনৈতিক অবস্থানে অনড়

​দুঃখ প্রকাশ করলেও তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে নিজের মৌলিক অবস্থানে অনড় রয়েছেন রাশেদ প্রধান। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শের বিএনপি এখন আর নেই। অতীতেও আমি এই কথা বলেছি, আজও বলছি।” তাঁর কুশপুত্তলিকা দাহ ও প্রতিবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি কর্মীদের গণতান্ত্রিক অধিকার।

বিরোধী দলের ভূমিকা ও সরকারের সমালোচনা

​রাশেদ প্রধান আরও বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনাশাহীর সময় আমি যেমন চুপ ছিলাম না, আজকেও থাকব না। জনগণের প্রাপ্য অধিকারের কথা বলা আমার দায়িত্ব। গণতান্ত্রিক দেশে সরকারের কোনো ব্যত্যয় হলে তা মনে করিয়ে দেওয়া বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ।” তিনি সরকারকে জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার পালনের আহ্বান জানান।