আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের সঙ্গে “ভদ্র আচরণের দিন শেষ”: ট্রাম্প
ইরান কর্তৃক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; আলোচনার জন্য তাঁর প্রতিনিধি দল সোমবার ইসলামাবাদ পৌঁছাবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘গুরুতর’ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সংঘাতের অবসানে তিনি এখনও একটি শান্তি চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আলোচনার নতুন ধাপ হিসেবে তাঁর প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন।
ইসলামাবাদে নতুন দফার আলোচনা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, তাঁর প্রতিনিধি দল আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পাকিস্তানে পৌঁছাবেন। উল্লেখ্য যে, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছিল। এবারও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। ট্রাম্প বলেন, “আমরা অত্যন্ত ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত একটি প্রস্তাব দিচ্ছি এবং আমি আশা করি, তারা (ইরান) এটি গ্রহণ করবে।”
কঠোর হুঁশিয়ারি: ‘ভদ্র আচরণের দিন শেষ’
আলোচনা সফল না হলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন:
অবকাঠামো ধ্বংস: যদি ইরান শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করে দেবে।
সহজ লক্ষ্যবস্তু: ট্রাম্পের দাবি, এই সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো খুব দ্রুত এবং সহজেই ধ্বংস করা সম্ভব।
কঠোর অবস্থান: তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের সঙ্গে “ভদ্র আচরণের দিন শেষ”।
জোনাথন কার্লের মাধ্যমে বার্তা
এবিসি নিউজের সাংবাদিক জোনাথন কার্ল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ট্রাম্পের সাথে তাঁর আলাপচারিতা তুলে ধরেছেন। কার্লের মতে, ট্রাম্প বিশ্বাস করেন একটি শান্তি চুক্তি সম্ভব এবং এটি যেভাবেই হোক ঘটবে। ট্রাম্প তাঁকে উদ্ধৃতি দেওয়ার অনুমতি দিয়ে বলেছেন, “এই চুক্তি হবেই। যেভাবেই হোক—সহজভাবে হোক বা কঠিনভাবে। এটি হতে যাচ্ছে।”
বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চললেও ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান এই সময়কালে জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে, ইরান দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বহাল থাকা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব নয়।


