ফাঁসির রায় শুনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ সদস্য বললেন ‘আমি রায় মানি না’

আবু সাঈদ হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এএসআই আমির হোসেন এজলাসেই চিৎকার করে রায় প্রত্যাখ্যান করেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন; দাবি করেন তিনি কেবল সরকারি হুকুম পালন করেছেন।

Apr 9, 2026 - 14:04
 0  11
ফাঁসির রায় শুনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ সদস্য বললেন ‘আমি রায় মানি না’
×

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক নাটকীয় ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এএসআই আমির হোসেন রায় শোনার পর এজলাসেই চিৎকার করে তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করার পর এই ঘটনা ঘটে।

​‘আমি সরকারের হুকুমের গোলাম’

​রায় ঘোষণা শেষে ট্রাইব্যুনালের এজলাস থেকে বের করার সময় ৩৫ বছর বয়সী সাবেক এএসআই মো. আমির হোসেন চিৎকার করে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি নির্দোষ, এই রায় মানি না, মানব না। আমি সরকারি চাকরি করেছি, আমি শুধু সরকারের হুকুম পালন করেছি। আমি সরকারের হুকুমের গোলাম।” কথাগুলো শেষ করেই তিনি উচ্চস্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় আদালত কক্ষ ও করিডোরে এক থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

রায়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

​বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল আবু সাঈদকে সরাসরি গুলি করার দায়ে এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন এবং বেরোবির দুই শিক্ষকসহ বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলার মোট ২৮ জন আসামির মধ্যে ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

আসামিপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও আপিল

​আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমরা এই রায়ে সংক্ষুব্ধ। আমরা এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় পাইনি, তবে যতটুকু শুনেছি তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করব এবং আশা করছি আপিল বিভাগ থেকে খালাস পাব।”

জনমনে প্রতিক্রিয়া

​আসামি আমির হোসেনের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং তাঁর ‘হুকুম পালনের’ দাবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, ঘাতক যেই হোক এবং যার হুকুমেই কাজ করুক না কেন, হত্যার দায় থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই রায় ন্যায়বিচারের পথকে আরও সুগম করল।