আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির দুই শিক্ষককে ১০ বছরের কারাদণ্ড
শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল; জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম রায় এটি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ এবং রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) ঘোষিত এই রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের কোনো হত্যাকাণ্ডের দায়ে এটিই প্রথম বিচারিক রায়।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুই শিক্ষক
ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত দুই শিক্ষক হলেন—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান এবং লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ। আবু সাঈদকে হত্যার উসকানি এবং ওই দিন পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা করার দায়ে তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে তাঁরা ঘাতকদের সহায়তা করে মহান পেশাকে কলঙ্কিত করেছেন।
শহীদ সাঈদ ও জুলাই বিপ্লব
গত বছরের ১৬ জুলাই বেরোবি সংলগ্ন রাস্তায় পুলিশের গুলিতে অকুতোভয় বীরত্ব প্রদর্শন করে শহীদ হন আবু সাঈদ। তাঁর বুক পেতে দেওয়ার সেই দৃশ্য সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে রূপ দেয়। এই রায়ের মাধ্যমে শহীদ সাঈদের পরিবার ও সহযোদ্ধাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল।
দেশজুড়ে স্বস্তি
আবু সাঈদ হত্যার প্রথম রায় আসার পরপরই রংপুরসহ সারাদেশের ছাত্র-জনতার মাঝে স্বস্তি দেখা গেছে। প্রসিকিউশন পক্ষ এই রায়কে ‘ন্যায়বিচারের মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে এই মামলায় জড়িত অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দণ্ড ও অন্যান্য আসামিদের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর রাখছে দেশবাসী।


