নিষিদ্ধই থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম, সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী বিল পাস
জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে; অমান্য করলে ৪ থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ডের বিধান।
আওয়ামী লীগ এবং দলটির সকল সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) বেলা সোয়া ১২টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। এর ফলে নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সকল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।
অধ্যাদেশ থেকে আইনে রূপান্তর
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ১১ মে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধন করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশটি ১২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে পাস করার বাধ্যবাধকতা ছিল। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সেই অধ্যাদেশটিকে স্থায়ী আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেয় এবং সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশক্রমে আজ তা বিল হিসেবে পাস হয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় যা থাকছে
নতুন পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর নিম্নলিখিত বিধি-নিষেধ কার্যকর থাকবে:
কোনো প্রকার মিছিল, সভা বা জনসমাবেশ করা যাবে না।
দলীয় কার্যালয়সমূহ বন্ধ থাকবে এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকবে।
কোনো প্রকার পোস্টার, ব্যানার বা লিফলেট প্রচার করা যাবে না।
গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বা প্রেস কনফারেন্স করা যাবে না।
কঠোর শাস্তির বিধান
বিলে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা সত্তা যদি এই আইন অমান্য করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৪ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আগে অধ্যাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও শাস্তির বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল, যা নতুন আইনে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের মে মাসে এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সেই সময় প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। বর্তমান সরকার সেই ধারাটিকেই আইনি ভিত্তি দান করল।


