বেতন-বোনাস দিতে বিশেষ ঋণ চান পোশাক শিল্প মালিকরা
বৈশ্বিক মন্দা ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে তৈরি পোশাক খাত। ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিশেষ ঋণ চেয়েছে বিজিএমইএ।
বৈশ্বিক মন্দা ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ও মার্চ মাসের অগ্রিম মজুরি পরিশোধ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিশেষ ঋণ সহায়তা চেয়েছে বিজিএমইএ।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই আবেদন জানানো হয়। বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইনামুল হক খান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে সহজ শর্তে দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ঋণের দাবি জানানো হয়েছে।
বন্ধ হয়েছে ৪০০ কারখানা, রপ্তানি আয়ে ধস
চিঠিতে বিজিএমইএ উল্লেখ করেছে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক মন্দা এবং শুল্কযুদ্ধের কারণে রপ্তানি আয়ে ধস নেমেছে। এর ফলে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। চিঠিতে আরও বলা হয়:
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি আয় ২.৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ ১২.৯০ শতাংশ কমেছে।
রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তার পরিমাণ কমানো এবং পণ্যের ইউনিট মূল্য কমে যাওয়ায় তারল্য সংকট চরমে পৌঁছেছে।
উৎপাদন ব্যাহত ও শ্রমিক অসন্তোষের শঙ্কা
বিজিএমইএর মতে, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কাজের অভাব ও অর্ডার পিছিয়ে যাওয়ার কারণে ৬০ দিনের মধ্যে ২৫ দিনই কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকদের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির প্রভাবেও শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কারখানাগুলোর পক্ষে শ্রমিকদের বেতন, ইউটিলিটি বিল এবং ব্যাংক সুদ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিজিএমইএর প্রস্তাব ও দাবি
সংগঠনটি তাদের চিঠিতে ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১২ মাসে পরিশোধযোগ্য বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন:
“ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা বর্তমানে কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোর পক্ষে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।”
বিজিএমইএ মনে করে, দ্রুত এই ঋণ সহায়তা দেওয়া হলে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখা এবং ঈদে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে।


