নারী সেজে ছাত্রদল নেতার টিকটক, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ক্ষমা চাইলেন সেই রেদোয়ান
নারী সেজে টিকটক ও ভিডিও তৈরির অভিযোগে বহিষ্কৃত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রদল নেতা রেদোয়ান ইসলাম ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন; লিঙ্গ পরিবর্তনের দাবিকে গুজব বলে আখ্যা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নারী সেজে ভিডিও ও টিকটক রিলস তৈরির ঘটনায় বহিষ্কৃত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলাম অবশেষে জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়েছেন। জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পর তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) নিজের ফেসবুক পেজ ‘রিহিয়া রিহি’ থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
‘বিনোদনের উদ্দেশ্যে নারী সাজতাম’
রেদোয়ান তার পোস্টে দাবি করেন, তিনি আসলে লিঙ্গ পরিবর্তন করে মেয়ে হননি, বরং কেবল কন্টেন্ট তৈরির খাতিরে নারী সেজেছিলেন। তিনি লেখেন, “আসলে আমি এগুলো মজার ছলে, বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি করেছিলাম। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি এবং সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে রাস্তায় দেখলে খারাপ কথা বলবেন না, নিজের ভাইয়ের মতো আচরণ করলে আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহজ হবে।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, তাকে ঘিরে ছড়ানো ট্রান্সজেন্ডার সংক্রান্ত তথ্যগুলো সম্পূর্ণ গুজব।
পরিবারের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা
রেদোয়ানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিয়ে বলেন, “আমার ছেলে থেকে মেয়েতে রূপান্তরের তথ্যটি সঠিক নয়। ঢাকায় কিছু কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের দেখে সেও টিকটক ভিডিও বানিয়ে ফেসবুকে ছেড়েছিল। আমরা পরিবারের কেউ এসব সমর্থন করিনি।” তিনি জানান, বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকে লোকলজ্জার ভয়ে রেদোয়ান বর্তমানে বাড়িতে নেই। ইতোমধ্যে রেদোয়ান তার টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করে দিয়েছেন।
ছাত্রদলের অবস্থান ও বহিষ্কারাদেশ
এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মামুন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রেদোয়ানকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, রেদোয়ান তার জীবনবৃত্তান্তে নিজেকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করলেও কমিটি ঘোষণার পর তার নারী সাজার ভিডিওগুলো সামনে আসে। তথ্য গোপন ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জনমনে প্রতিক্রিয়া
রেদোয়ানের এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে কেবল ‘শখের বশে করা ভুল’ হিসেবে দেখলেও, রাজনৈতিক সংগঠনের পদে থেকে এমন আচরণকে অনেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বলে মন্তব্য করেছেন। তবে রেদোয়ানের ক্ষমা চাওয়ার পর তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনেরা।


