ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, ১০ কিলোমিটার যানজট
বকেয়া বেতন ও ভাতার দাবিতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা; ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে স্থবির জনজীবন।
বকেয়া বেতন ও ভাতার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এর ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী ও চালক।
শ্রমিকদের দাবি ও অবস্থান
অবরোধে কুমিল্লা ইপিজেডের নাসা গ্রুপের শতাধিক শ্রমিক অংশ নেন। বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের দাবি, সারাদেশে নাসা গ্রুপের সকল শ্রমিকের বকেয়া বেতন ও আনুষঙ্গিক ভাতা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বেতন পরিশোধের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা মহাসড়ক থেকে সরবেন না। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা ১১টা ৩৫ মিনিট) অবরোধ কর্মসূচি চলছিল।
মহাসড়কে স্থবিরতা ও ভোগান্তি
অবরোধের ফলে পদুয়ার বাজার অংশ থেকে দুই পাশে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ঢাকামুখী ও চট্টগ্রামমুখী উভয় লেনে শতশত যানবাহন আটকে পড়েছে। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে বাসে আটকে থাকা সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকগুলোর চালকরাও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
প্রশাসনের তৎপরতা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, র্যাব এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম জানান, “শ্রমিকরা দীর্ঘক্ষণ ধরে মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছি যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক করা যায়।”
তবে শ্রমিকরা তাদের দাবিতে অনড় থাকায় এবং মালিকপক্ষের কোনো প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে না আসায় পরিস্থিতি এখনো থমথমে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমাধান না করলে এই যানজট আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


