ঢামেকে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ: জরুরি সেবা বন্ধ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওষুধ কেনাকে কেন্দ্র করে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ; নিরাপত্তার অজুহাতে জরুরি সেবা বন্ধ রাখায় বিপাকে রোগীরা।

Apr 8, 2026 - 18:59
 0  5
ঢামেকে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ: জরুরি সেবা বন্ধ
×

ওষুধ কেনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল শিক্ষার্থীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর জের ধরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে দেশের শীর্ষতম এই হাসপাতালে আসা শত শত মুমূর্ষু রোগী চরম সংকটে পড়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘর্ষ

​প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ঢাবির এক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে জরুরি বিভাগে আসেন। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দিলে তিনি জানান যে, ওই ওষুধগুলো সরকারি সরবরাহ তালিকায় নেই এবং বাইরে থেকেও কেনা সম্ভব হচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর ওই শিক্ষার্থী তাঁর বেশ কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও হাতাহাতিতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

জরুরি সেবা বন্ধ ও চিকিৎসকদের দাবি

​সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিক কর্মবিরতির ডাক দেন। চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে তাঁরা জরুরি বিভাগের প্রধান গেট বন্ধ করে দেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কাজে ফিরবেন না। জরুরি সেবা বন্ধ হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে আসা অনেক রোগীকে বিনা চিকিৎসায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে, যা সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

প্রশাসনের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি

​ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ওষুধ কেনা নিয়ে তুচ্ছ ঘটনার জেরে হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।” বর্তমানে হাসপাতাল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঢামেক কর্তৃপক্ষ ও ঢাবি প্রশাসনের মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে।

​জরুরি বিভাগের সামনে রোগী ও স্বজনদের আর্তনাদ বাড়লেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাঁদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।