জ্বালানি তেল রেশনিং: কমছে বাস চলাচল, মিলছে না ঈদের আগাম টিকিট

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেল রেশনিং শুরু হওয়ায় পরিবহণ খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় দূরপাল্লার বাসের আগাম টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে অনেক কোম্পানি।

Mar 11, 2026 - 05:31
 0  25
জ্বালানি তেল রেশনিং: কমছে বাস চলাচল, মিলছে না ঈদের আগাম টিকিট
×

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশেও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় সড়ক ও নৌপথে পরিবহণ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় বিপত্তি দেখা দিয়েছে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগাম টিকিট নিয়ে; অনিশ্চয়তার কারণে অধিকাংশ দূরপাল্লার বাস কোম্পানি এবার অগ্রিম টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে।

​১১ মার্চ (বুধবার) রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, বিপিসির নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী একটি দূরপাল্লার বাস সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার এবং লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারছে। তবে বাস মালিকদের অভিযোগ, অনেক ফিলিং স্টেশনে এই পরিমাণ তেলও মিলছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বাস চলাচল কমিয়ে দিয়েছেন তারা।

টার্মিনালগুলোর চিত্র:

​সায়েদাবাদ: এই টার্মিনাল থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রুটে বাস চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। আগে যেখানে একটি রুটে শতাধিক বাস চলত, এখন সেখানে মাত্র ৩৫-৪০টি বাস ছাড়ছে। চালকরা জানিয়েছেন, গন্তব্যে পৌঁছাতে যেখানে ১৪০ লিটার তেল প্রয়োজন, সেখানে পাম্প থেকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০-৩০ লিটার। ফলে পথে পথে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে।

​গাবতলী: তবে গাবতলী বাস টার্মিনালে প্রভাব কিছুটা কম। হানিফ, সোহাগ বা শ্যামলীর মতো বড় পরিবহণগুলোর নিজস্ব পাম্প থাকায় তারা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছে। ফলে এই টার্মিনাল থেকে চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে।

​সদরঘাট: লঞ্চ চলাচলের ক্ষেত্রে তেলের প্রভাব থাকলেও অগ্রিম টিকিটে যাত্রীদের তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কেবিন বুকিংয়ের সুবিধা থাকলেও সপ্তাহখানেকের আগে ভিড় বাড়বে না বলে মনে করছেন লঞ্চ মালিকরা।

যাত্রীদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ:

ঈদে বাড়ি ফিরতে ইচ্ছুক যাত্রীরা আগাম টিকিট না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগাম টিকিট বিক্রি করে যদি তেলের অভাবে বাস ছাড়া না যায়, তবে যাত্রীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে। তাই তারা তাৎক্ষণিক টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাধারণ যাত্রীদের আশঙ্কা, সংকটের অজুহাতে ঈদের সময় কয়েক গুণ বাড়তি ভাড়া আদায় করা হতে পারে।

​এদিকে, নগরীর অনেক পেট্রোল পাম্প দিনের অর্ধেক সময় বন্ধ রাখা হচ্ছে। যেসব পাম্প খোলা থাকছে, সেখানে যানবাহন ও মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। আসন্ন বোরো মৌসুমে সেচ কাজ এবং ঈদযাত্রার আগে এই সংকট নিরসন না হলে ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।