ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা আজ, প্রস্তুত ইসলামাবাদ
ইসলামাবাদে আজ ঐতিহাসিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে; রেড জোন এলাকা সিলগালা করেছে পাকিস্তান এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের আগমনের অপেক্ষা।
বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনা আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আলোচনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও লেবানন ইস্যু নিয়ে পর্দার অন্তরালে এখনও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত ইসলামাবাদের সরকারি ভবন ও বিভিন্ন দূতাবাস সমৃদ্ধ ‘রেড জোন’ এলাকা সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও আজ সকাল থেকে তা সব ধরনের মানুষ ও যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এই বিশেষ এলাকাটি সিলগালা করে দিয়েছে। তবে রেড জোনের আশপাশের এলাকাগুলোতে কয়েকশ দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংবাদ সংগ্রহের সুবিধার্থে পাকিস্তান সরকার সাংবাদিকদের জন্য ‘জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টার’ বরাদ্দ দিয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের আগমন
শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) ‘এয়ার ফোর্স টু’-তে করে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর বিষয়ে সরাসরি আলোচনা হবে।
অনিশ্চয়তা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
আলোচনার প্রস্তুতি তুঙ্গে থাকলেও শেষ পর্যন্ত এর ফলাফল নিয়ে জনমনে সংশয় রয়ে গেছে। লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান একে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে লেবানন ইস্যুটি সরাসরি যুদ্ধবিরতির চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ইসরায়েল এই স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
আশাবাদ ও কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি
চুক্তি ভঙ্গের বিষয়ে দুই দেশ একে অপরের দিকে আঙুল তুললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ব্যক্তিগতভাবে এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে উভয় পক্ষই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের দেওয়া শর্তগুলো পূরণ না হলে তারা কঠোর অবস্থানে ফিরে যেতে দ্বিধা করবে না। ইসলামাবাদের এই টেবিল থেকেই নির্ধারিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী রাজনৈতিক মানচিত্র।


