আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বিচার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি: পালাতক আসামিদের গ্রেফতারে উদ্যোগ নিতে হবে : মাওলানা গাজী আতাউর রহমান
শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়কে বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ; তবে পালাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে জোর দাবি জানিয়েছেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত রায়কে বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) রায় ঘোষণার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই অভিমত ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি এই মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
রায়কে স্বাগত ও পলাতক আসামিদের নিয়ে উদ্বেগ
বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতাকে হত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় এই রায় একটি মাইলফলক। আমরা এই রায়কে স্বাগত জানাই।” তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই মামলার ৩৩ জন আসামির মধ্যে মাত্র কয়েকজন গ্রেফতার আছে, বাকিরা এখনও পলাতক। পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে সরকারকে আরও জোরালো ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সাজা বাস্তবায়ন ও প্রধান কুশিলবদের গ্রেফতার
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুখপাত্র বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় বিচার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ মাত্র। উচ্চ আদালতের শুনানিসহ সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত এই সাজা বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রধান কুশিলব ও অপরাধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গ্রেফতারে এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি নেই উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সতর্কতা দাবি করেন।
হুকুমদাতার শাস্তি নিয়ে পর্যবেক্ষণ
রায়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক তুলে ধরে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রায়ের পর চিৎকার করে নিজেকে ‘হুকুমের গোলাম’ দাবি করেছে। একজন এএসআই বা কনস্টেবলের পক্ষে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করা কঠিন। তাই এমন ঘটনায় হুকুমদাতাই মূল শাস্তির দাবিদার হওয়া উচিত।” তিনি মনে করেন, হুকুমের আসামিদের প্রতি নমনীয় শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা
পরিশেষে তিনি বলেন, আইনের ধারা ও প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা আশা করি, অপরাধীরা তাদের প্রাপ্য শাস্তি পাবে এবং এই বিচারের মাধ্যমে এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে যেন ভবিষ্যতে আর কেউ জনতার ওপর গুলি চালানোর সাহস না পায়। শহীদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় সরকারকে আপসহীন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


