নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপদে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা: বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতি আহ্বান ইসলামী আন্দোলনের
নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস; সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মাওলানা ইউনুস আহমাদ।
সারাদেশে সবজি, মুরগি, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য চরম বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে অবিলম্বে কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
বাজারের বর্তমান চিত্র ও মূল্য তালিকা
বিবৃতিতে বর্তমান বাজারের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, রোজার তুলনায় বর্তমানে প্রতিটি পণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে বাজার দর:
মুরগি: সোনালি মুরগি ৪০০–৪৩০ টাকা (রোজায় ছিল ২৭০–৩০০), ব্রয়লার ১৭০–১৮০ টাকা এবং লেয়ার ৩৪০–৩৫০ টাকা।
মাংস ও মাছ: গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা (আগে ছিল ৭৫০–৭৮০)। রুই ও কাতলা মাছের দাম কেজিতে অন্তত ২০ টাকা বেড়েছে।
সবজি: অধিকাংশ সবজির দাম ২০–৩০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকার ঘরে পৌঁছেছে। চিচিঙ্গা ও ঝিঙে ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
জ্বালানি: ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১,৭২৮ টাকা হলেও বাজারে তা ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব দাবি করেন, এই দামবৃদ্ধির পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। মূলত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি এবং ব্যবসায়ীদের অতিমুনাফাখোরি মনোভাবের কারণেই সাধারণ মানুষকে এই কষ্ট সইতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “ক্রেতারা এখন পছন্দের পণ্য কিনতে না পেরে প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে কেনাকাটা করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
সরকারের প্রতি তিন দফা দাবি
বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে:
১. নিয়মিত বাজার তদারকি নিশ্চিত করা এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
২. পরিবহন ও বাজার কেন্দ্রিক সকল প্রকার চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধ করা।
৩. অতিমুনাফাখোরি ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে ধরে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, জনগণের জীবনযাত্রার মান রক্ষায় রাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ আরও তীব্র হবে।


