নির্দলীয় নির্বাচন: কাগজে বাস্তব, মাঠে কি সম্ভব?

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল করে সংসদে ৫টি বিল পাস; রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আইনি পরিবর্তনের চেয়ে ‘অদৃশ্য মনোনয়ন’ ঠেকানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Apr 12, 2026 - 17:39
 0  4
নির্দলীয় নির্বাচন: কাগজে বাস্তব, মাঠে কি সম্ভব?
×

দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে একযোগে পাঁচটি সংশোধনী বিল পাসের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত সব স্তরে নির্দলীয় নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে আইনি এই পরিবর্তনের সুফল তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় ও বিতর্ক রয়েই গেছে।

আইনি কাঠামোর আমূল পরিবর্তন

​সংশোধিত আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরেই (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন) এখন থেকে প্রার্থীরা কোনো দলের হয়ে মনোনয়ন বা প্রতীক পাবেন না। সবাই ব্যক্তিগত যোগ্যতায় ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর এটি স্থায়ী আইনে পরিণত হবে। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের চালু করা ‘দলীয় প্রতীক ব্যবস্থা’র অবসান ঘটল।

দলীয় প্রতীকের নেতিবাচক প্রভাব ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

​২০১৫ সালে দলীয় প্রতীক চালুর পর থেকে স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন-বাণিজ্য, চরম সহিংসতা এবং সামাজিক বিভক্তি লক্ষ্য করা যায়। এর ফলে যোগ্য ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচন থেকে মুখ সরিয়ে নেন। এই সংকট উত্তরণে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার বিলটি সংসদে পাস করেছে।

​‘অদৃশ্য মনোনয়ন’ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির চ্যালেঞ্জ

​আইন সংশোধন হলেও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ‘অদৃশ্য মনোনয়ন’ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন না দিলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থী ঠিক করে দিতে পারে।

​যোগ্যতার অভাব: রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রার্থী বেছে নেওয়ায় অতীতে যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্য প্রাধান্য পেয়েছে।

​প্রার্থীর সংখ্যা: নির্দলীয় ব্যবস্থা ফিরলে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়বে, যা যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।

​বিভেদের রাজনীতি: বর্তমান রাজনৈতিক বিভক্তি প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গেছে। এই অবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো আন্তরিক না হলে কেবল আইন দিয়ে পরিবর্তন আনা কঠিন হবে।

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ

​বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সদিচ্ছা দেখায় এবং দলগুলো যদি ‘ছায়া মনোনয়ন’ থেকে বিরত থাকে, তবেই স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। অন্যথায়, ‘কাগজে নির্দলীয়’ হলেও মাঠপর্যায়ে দলীয় প্রভাবের সংস্কৃতি বহাল থাকার ঝুঁকি থেকে যাবে।