সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে, তিনে ডা. শফিক, দুইয়ে কে?
২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশে অপপ্রচারের ভয়াবহ চিত্র; সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দ্বিতীয় স্থানে শেখ হাসিনা এবং তিনে ডা. শফিকুর রহমান।
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে অপপ্রচারের এক বিশাল ঢেউ লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে অপপ্রচারের শিকার হওয়া ব্যক্তিত্বদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অপপ্রচার শনাক্তকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার বাংলাদেশ’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত—উভয় ক্ষেত্রেই অপতথ্যের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বর্তমান সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতারা।
অপপ্রচারের শীর্ষ ৩ ব্যক্তিত্ব
রিউমার স্ক্যানার গত তিন মাসে মোট ১,৯৭৪টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে একক ব্যক্তি হিসেবে শীর্ষ তিন জন হলেন:
১. তারেক রহমান (প্রধানমন্ত্রী): তাঁকে নিয়ে ২৮৭টি অপপ্রচার শনাক্ত করা হয়েছে।
২. শেখ হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী): তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে নিয়ে ৯০টি অপতথ্য ছড়িয়েছে।
৩. ডা. শফিকুর রহমান (বিরোধী দলীয় নেতা): জামায়াত আমির ও বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতার বিরুদ্ধে ৮০টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।
প্ল্যাটফর্ম ও মাধ্যমের ভূমিকা
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অপপ্রচারের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র ছিল মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক (১,৭৩২টি)। এরপর টিকটকে ৩৬৮টি এবং ইউটিউবে ১১৫টি ভুল তথ্য পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরেও দেশি গণমাধ্যমে ৬৮টি এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে অন্তত ৯টি ঘটনায় বাংলাদেশকে জড়িয়ে অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
জাতীয় ইস্যু ও অন্যান্য ব্যক্তিত্ব
ব্যক্তিত্বের বাইরে জাতীয় ইস্যুগুলোতেও গুজবের বিস্তার ছিল ব্যাপক:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস: সাবেক প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে ৫০টি অপতথ্য ছড়িয়েছে।
অন্যান্য: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান: সেনাবাহিনী (৭০) ও পুলিশ (৫৮) বাহিনীকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য হারে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
ক্রীড়া ও বিনোদন: ক্রীড়াঙ্গনে মুস্তাফিজুর রহমান এবং বিনোদন জগতে আসিফ আকবর সবচেয়ে বেশি অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন।
ভুয়া ফটোকার্ডের উদ্বেগজনক বিস্তার
গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানো এখন নতুন কৌশলে পরিণত হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে ৫৯৩টি ভুয়া ফটোকার্ড তৈরির ঘটনা ঘটেছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি টার্গেট করা হয়েছে দৈনিক আমার দেশ (৯১) পত্রিকাকে। এরপর রয়েছে যমুনা টিভি (৬৫) ও দৈনিক কালের কণ্ঠ (৫৫)।
ভারতীয় গণমাধ্যমের ভূমিকা
চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম বাংলাদেশকে নিয়ে নিয়মিত অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মার্চ মাসে নির্বাচনের উত্তেজনা কমে আসার সাথে সাথে অপতথ্যের এই তীব্রতা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে বলে জানায় রিউমার স্ক্যানার।


