চুক্তি মানছে না ইরান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্মকাণ্ড ও তেল পরিবহনে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় পাল্টাপাল্টি হুমকির মুখে যুদ্ধবিরতি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে তেল পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, যা কোনোভাবেই পূর্ববর্তী কোনো চুক্তির অংশ নয়। শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও জাহাজের ওপর ফি
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় ইরানকে সতর্ক করে বলেন, “ইরান জাহাজ চলাচলের ওপর যদি কোনো অতিরিক্ত ফি বা শুল্ক আরোপের চেষ্টা করে, তবে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।” তিনি বিষয়টিকে ‘খুবই খারাপ কাজ’ হিসেবে অভিহিত করে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
লেবানন সংকট ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন
এদিকে লেবাননে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। লেবানন সরকার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবারও (৯ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চ সাইট লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরান এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে এবং এর প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
নেতানিয়াহুর অবস্থান ও হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তাঁর সরকার লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এই আলোচনার মূল শর্ত হবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা। অন্যদিকে, ইরান এই নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
ওয়াশিংটনে বিশেষ বৈঠক
সংকট নিরসনে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। এই বৈঠকের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর মনোভাব ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে আলোচনার সফলতা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।


