গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ইরানকে রাশিয়ার সহায়তার ব্যাপারে যা বললেন ট্রাম্প
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পুতিন হয়তো তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন।
চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘সম্ভবত’ ইরানকে কিছুটা সামরিক বা গোয়েন্দা সহায়তা করছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্পের পাল্টা যুক্তি:
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পুতিন হয়তো তেহরানকে ‘সামান্য’ সাহায্য করছেন। এর পেছনে একটি ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণও তুলে ধরেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, পুতিন সম্ভবত সেটির পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই ইরানকে সমর্থনের পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, কেবল রাশিয়া নয়, চীনের মতো শক্তিগুলোও এই একই সমীকরণ মাথায় রেখে তাদের মিত্রদের সহায়তা দিতে পারে।
গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের অভিযোগ:
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াশিংটন পোস্ট' এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মস্কো সম্ভবত মার্কিন রণতরি এবং যুদ্ধবিমানের গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য তেহরানের কাছে হস্তান্তর করেছে, যাতে তারা নিখুঁতভাবে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানতে পারে।
পেন্টাগনের উদ্বেগ:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘সামান্য সহায়তা’ হিসেবে বর্ণনা করলেও পেন্টাগন এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একে চরম উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, রাশিয়ার দেওয়া উচ্চ-পর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের জীবনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমান সরাসরি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের আবহে রাশিয়ার এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


