রায়ে অসন্তোষ, সব আসামির ফাঁসি চান আবু সাঈদের বাবা

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁর বাবা মকবুল হোসেন; আদেশদাতা বড় পুলিশ কর্মকর্তাদের সাজা কম হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে সবার ফাঁসি দাবি করেছেন তিনি।

Apr 9, 2026 - 14:34
 0  3
রায়ে অসন্তোষ, সব আসামির ফাঁসি চান আবু সাঈদের বাবা
×

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁর বাবা মকবুল হোসেন। রায়ে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড হলেও মূল আদেশদাতাদের সর্বোচ্চ সাজা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে রায় ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি তাঁর এই অবস্থানের কথা জানান।

​‘বড় কর্মকর্তারা বেঁচে গেল’

​রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মকবুল হোসেন বলেন, “আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় যারা আদেশ দিয়েছে, সেই বড় বড় পুলিশের কর্মকর্তারাই তো বাঁচি গেলো। ছেলে হত্যার ঘটনাটি শুধু কনস্টেবলের ওপর দিয়ে গেল। যাদের আদেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তারা বেঁচে গেল। আমরা সব আসামির ফাঁসি চাই।” তিনি মনে করেন, কেবল মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সাজা হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডদেরও ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত ছিল।

​রায়ের সংক্ষিপ্ত চিত্র ও ক্ষোভের কারণ

​আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর রায়ে এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বেরোবির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ এবং দুই শিক্ষকসহ আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। মকবুল হোসেনের অভিযোগ, এই বড় কর্মকর্তারা সরাসরি নির্দেশের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাঁরা মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেয়েছেন, যা শহীদ পরিবারের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

​পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

​সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মকবুল হোসেন জানান, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই মামলায় জড়িত সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দাবি করা হয়েছিল।

​ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা

​উল্লেখ্য, আজ দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায়টি সরাসরি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হলেও শহীদ সাঈদের পরিবার মনে করছে, এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।