প্রথমবারের মতো নাইজেরিয়ায় ‘হ্যাচিং এগ’ রপ্তানি করল বাংলাদেশ

দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন ইতিহাস। প্রথমবারের মতো নাইজেরিয়ায় ১০ হাজার ৪৪০টি ‘হ্যাচিং এগ’ (বাচ্চা উৎপাদনের উপযোগী ডিম) রপ্তানি করল বাংলাদেশ। জানুন বিস্তারিত।

Jun 28, 2026 - 17:39
 0  2
প্রথমবারের মতো নাইজেরিয়ায় ‘হ্যাচিং এগ’ রপ্তানি করল বাংলাদেশ
×

বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতে এক নতুন ও ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো আফ্রিকান দেশ নাইজেরিয়ায় ১০ হাজার ৪৪০টি ‘হ্যাচিং এগ’ (বাচ্চা উৎপাদনের উপযোগী ডিম) রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

​আজ রোববার (২৮ জুন) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গৌরবময় তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রপ্তানি করা ডিমগুলো উন্নত ‘রস ৩০৮ ব্রয়লার’ (প্যারেন্ট হ্যাচিং এগস) জাতের। এই চালানের মাধ্যমে দেশ অর্থমূল্যে ১৮ হাজার ৭২৯ মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করবে।

​ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই রপ্তানি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।

রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার:

​উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি উৎপাদনশীল খাতকে রপ্তানিমুখী হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। তাঁর এই দূরদর্শী নির্দেশনায় বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতও ধীরে ধীরে একটি আন্তর্জাতিক মানের শক্তিশালী রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত হচ্ছে। আজকের এই ডিম রপ্তানি কার্যক্রম সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক এবং দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে সম্পূর্ণ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করল।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশ যখন নিজস্ব অভ্যন্তরীণ চাহিদা সম্পূর্ণ পূরণ করে বিদেশে এই ধরনের উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ও সংবেদনশীল পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়, তখন তা বিশ্বমঞ্চে আমাদের সক্ষমতারই প্রতিফলন ঘটায়। এটি শুধু একটি সাধারণ বাণিজ্যিক কার্যক্রম নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রাণিসম্পদ খাতের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনেরও এক বড় প্রমাণ।” প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে এই রপ্তানির পরিধি আরও অনেক দেশে সম্প্রসারিত হবে এবং খাতটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হবে।

আন্তর্জাতিক মান অর্জনে কাজ করছে অধিদপ্তর:

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, “মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন ও নির্দেশনায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একটি আধুনিক, মানসম্পন্ন ও আন্তর্জাতিক মানের রপ্তানিমুখী খাত গড়ে তুলতে মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নাইজেরিয়ার এই বাজারটি বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।”

​সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফল রপ্তানির মাধ্যমে দেশের পোল্ট্রি শিল্পের উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করতে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।