আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সম্পূর্ণ বিলুপ্তির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একাত্তরের যুদ্ধবন্দি প্রত্যাবাসনের পর আইনটির কার্যকারিতা কেন শেষ—তা নিয়ে রিটে কী বলা হয়েছে? জানুন বিস্তারিত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিট আবেদনে ১৯৭৩ সালের তৈরি এই আইনটির সম্পূর্ণ বিলুপ্তি বা বাতিল ঘোষণা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসীন রশিদ জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে।
আইনটি বাতিলের সপক্ষে রিটের যুক্তি:
দায়ের করা রিট আবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও আইনি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার দায়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অফিসার ও সদস্যদের বিচারের মুখোমুখি করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে মূলত ১৯৭৩ সালে বিশেষভাবে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে সিমলা চুক্তি ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় একাত্তরের সেই যুদ্ধবন্দিদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়েই এই বিশেষ আইনটির মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে। ফলে বর্তমান সময়ে এই আইনের আর কোনো আইনগত প্রাসঙ্গিকতা বা উপযোগিতা নেই বলে রিট আবেদনে দাবি করা হয়।
খুব শিগগিরই হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এই রিট আবেদনটির ওপর প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে।


