ময়মনসিংহে হামে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৪টি শিশুর মৃত্যু হলো।
ময়মনসিংহে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ও প্রাণহানি ক্রমাগত বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের সংক্রমণ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে হাসপাতালটিতে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৫৪টি শিশুর করুণ মৃত্যু হলো।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গত ১৯ জুন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সাড়ে তিন মাস বয়সি এক শিশুকে তীব্র হামের লক্ষণ নিয়ে মমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে শিশুটি মারা যায়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শিশুটি শুধু হামেই আক্রান্ত ছিল না, এর পাশাপাশি সে তীব্র নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় ভুগছিল। মূলত হামের পরবর্তী এই শারীরিক জটিলতাই শিশুটির মৃত্যুর প্রধান কারণ।
আইসোলেশন ওয়ার্ডের বর্তমান চিত্র:
মমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের বিশেষায়িত হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে নতুন করে আরও ১৫ জন আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ১৯টি শিশু। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডটিতে মোট ৯১ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তিন মাসের সামগ্রিক পরিসংখ্যান:
হাসপাতালের পরিসংখ্যান ও তথ্য কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে আজ শুক্রবার (২৬ জুন) পর্যন্ত হামের স্পষ্ট লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ২ হাজার ৩৬২ জন শিশু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এদের মধ্যে ২ হাজার ২১৭ জন শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরে গেছে।
ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ও মমেক হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেছেন, শিশুর শরীরে উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি এবং লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনো ‘হাম-রুবেলা (MR)’ টিকা পায়নি, তাদের দ্রুত সুরক্ষার আওতায় আনার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


