ভোট চলে গেলে এফডিসিতে কুকুর ঘুরে: হারুন কিসিঞ্জার

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে এফডিসির চিরচেনা রূপ ও তারকাদের দেওয়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার। বিস্তারিত জানুন।

Jun 28, 2026 - 21:08
 0  2
ভোট চলে গেলে এফডিসিতে কুকুর ঘুরে: হারুন কিসিঞ্জার
×

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন মানেই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) উৎসবের আমেজ। বছরের অন্য সময় প্রাঙ্গণটিতে রূপালি জগতের তারকাদের তেমন একটা দেখা না মিললেও, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে প্রবীণ-নবীন শিল্পীদের এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয় এফডিসি।

​এফডিসির এই চিরচেনা নির্বাচনী আবহ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার। এফডিসির বর্তমান জমজমাট পরিবেশ নিয়ে স্বভাবসুলভ রসিকতার ছলে এক বড় সত্য প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এফডিসিতে ভোট তো চলে এসেছে, তাই এখন অনেক মানুষ দেখছি। কিন্তু সাধারণ সময়ে এফডিসিতে এসে দেখি কোনো মানুষ নেই, দু-একটা কুকুর ঘুরে বেড়ায়। আমি একদম সত্যি কথা বলছি।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “আমি এখন নাটকের অভিনয় আর বিজ্ঞাপনের কাজ নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকি। তাই সাধারণ সময়ে এফডিসিতে খুব একটা আসা হয় না। তবে শিল্পী সমিতির নির্বাচন এলেই চলে আসি। কারণ এই বিশেষ সময়ে পুরোনো অনেক গুণী শিল্পীর সঙ্গে দেখা হয়, নতুনদের সঙ্গেও পরিচয় ও আড্ডা হয়। সবাইকে একসঙ্গে দেখতে সত্যিই খুব ভালো লাগে।”

ভোট দেওয়ার বিষয়ে ও ‘শিষ্য’ চিকন আলী প্রসঙ্গ:

​কাকে ভোট দেবেন—গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন কিসিঞ্জার বলেন, “ভোটের আগের রাতে শান্ত হয়ে বসে চিন্তা করব যে, এত এত ভদ্র মানুষের ভিড়ে আসলে কাকে ভোট দেওয়া যায়। কারণ দুই প্যানেলের যারাই দাঁড়িয়েছেন, সবাই আমার দৃষ্টিতে ভালো মানুষ। তবে একটা ভোট আমি এখনই নিশ্চিত করে বলে দিতে পারি। আমার প্রিয় শিষ্য চিকন আলীকে আমি অবশ্যই ভোট দেব।”

​চিকন আলীকে ভোট দেওয়ার একটি আবেগঘন ও যৌক্তিক কারণ তুলে ধরে এই কৌতুক অভিনেতা বলেন, “আমি নিজে জীবনে কোনোদিন নির্বাচন করিনি এবং করার ইচ্ছাও নেই। তবে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছি, চিকন আলী যেহেতু এবার নির্বাচন করছে, তাকে একটা ভোট দেবই। কারণ একবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি মারা গেছি বলে একটি কুৎসিত গুজব ছড়ানো হয়েছিল। সেই খবর শুনে চিকন আলী অনেক কান্নাকাটি করেছিল। আমার প্রতি তার এই ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে ওকে একটা ভোট তো দিতেই হবে।”

নেতাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষোভ:

​নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দেওয়া নানা রকম প্রতিশ্রুতির কড়া সমালোচনা করে হারুন কিসিঞ্জার বলেন, “বিগত নির্বাচনগুলোয় আমরা দেখেছি, অনেক বড় বড় তারকারা ভোটের আগে বলেছিলেন—গরীব শিল্পীদের থাকার জায়গা দেবেন, ফ্ল্যাট দেবেন, উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি, নির্বাচনের পর কাউকে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। আমার স্পষ্ট কথা হলো, এবার যারা নির্বাচন করছেন তারা যেন দয়া করে সাধারণ শিল্পীদের সাথে মিথ্যা কথা না বলেন। যেটা আপনাদের পক্ষে করা সম্ভব, শুধু সেটাই প্রতিশ্রুতি দিন। দিনশেষে শিল্পীদের সঙ্গে মিথ্যা বলার কোনো দরকার নেই। কারণ পরে কিন্তু সবার সামনে ধরা খেতে হবে।”

​সবশেষে আগের ও বর্তমান নির্বাচনের তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আগের আমলের নির্বাচনগুলো অনেক বেশি উৎসবমুখর ও জৌলুসপূর্ণ ছিল। এমন এক জমজমাট পরিবেশ তৈরি হতো যা দেশের জাতীয় নির্বাচনকেও যেন হার মানিয়ে দিতো। এমনকি দেশের বাইরের মানুষ ও প্রবাসীরাও এই নির্বাচন নিয়ে খবর রাখত। সেই তুলনায় এবার জৌলুস ও জাঁকজমক কিছুটা কমেছে। তারপরও আমরা আনন্দ করছি, সবাই একসঙ্গে হতে পারছি—এটাই দিনশেষে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিষয়।”