ঋণখেলাপি হওয়ায় আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, নিতে পারবেন না শপথ
ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না। বিস্তারিত জানুন।
ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে তিনি সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন আসলাম চৌধুরী। তবে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে আদালতের আদেশে তাঁর নির্বাচনের ফলাফল প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছিল।
আইনি লড়াইয়ের পটভূমি:
নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর ঋণখেলাপির অভিযোগে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে, হাইকোর্টের আদেশে তাঁর প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছিল। তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করেন একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত নেতা আনোয়ার সিদ্দিকী।
জামায়াত প্রার্থীর করা ওই লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। সেই আদেশে বলা হয়েছিল, আসলাম চৌধুরী যদি নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও নতুন নির্বাচন প্রসঙ্গ:
লিভ টু আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী গত ৩১ মার্চ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে আপিল বিভাগে একটি পৃথক আপিল দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে নির্ধারণ করে দেন। দীর্ঘ শুনানির পর গতকাল আদালত আসলাম চৌধুরীকে ঋণখেলাপি সাব্যস্ত করে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের চূড়ান্ত রায় দেন।
এই মামলার শুনানিতে অংশ নেওয়া জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির সংবাদমাধ্যমকে জানান, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। তবে চট্টগ্রাম-৪ আসনে এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি নতুন করে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—সে বিষয়ে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিস্তারিত জানা যাবে।


