বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
খাদ্য নিরাপত্তা, সার আমদানি ও জীবিকা সুরক্ষায় বাংলাদেশকে প্রায় ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় কীভাবে এই বিশাল অর্থ ব্যয় হবে? জানুন বিস্তারিত।
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশকে প্রায় ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটন সদর দপ্তরে দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই বিশাল অংকের অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে এই ঋণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই জরুরি সহায়তার মাধ্যমে ধান উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সারের বৈশ্বিক সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। একই সাথে সাধারণ মানুষের জীবিকা, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং সরকারের জরুরি সেবা খাতগুলো সচল রাখতে এই অর্থ বড় ভূমিকা রাখবে।”
সার আমদানিতে ৩০ কোটি ডলারের বিশেষ প্রকল্প:
অনুমোদিত এই বিশাল তহবিলের মধ্য থেকে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) সরাসরি প্রদান করা হবে। এই অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবরের আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমে দেশের প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে ব্যয় করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট বার্ষিক সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ লাখ টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানির জন্য সরাসরি অর্থায়ন করা হবে, যার অর্ধেকই থাকবে ইউরিয়া সার। এর ফলে দেশের প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর ফসলি জমিতে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে।
প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি জানান, বাংলাদেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। এছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সারের সরবরাহ কোনো কারণে ব্যাহত হলে তা শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই বিঘ্নিত করবে না, বরং গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জরুরি সেবা ও নগদ সহায়তায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার:
অন্যদিকে, ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় বাংলাদেশকে বাকি ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা) প্রদান করা হচ্ছে। এই তহবিলের অর্থ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ছাড় করা হবে এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সরাসরি নগদ আর্থিক সহায়তা এবং জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে।
পাশাপাশি খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধ, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহের মতো জাতীয় জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে জ্বালানি খাতে এই অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, এই অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই পুরোপুরি ছাড় করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, “বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের (Reallocation) মাধ্যমে এই জরুরি সহায়তা প্যাকটি তৈরি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানকে যেকোনো আকস্মিক অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।”


