মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে রায় আজ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে নৃশংসভাবে হত্যাসহ আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করা হবে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল মামলাটি:
এর আগে গত ১৪ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ—উভয়পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি যেকোনো দিন রায়ের জন্য (CAV) অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন। গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনালের আজকের কার্য তালিকায় (কজ লিস্ট) রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৮টি গুরুতর অভিযোগ:
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন উইং সূত্রে জানা গেছে, হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে এই মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
নিজের নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়ায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি হামলায় উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়া।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে আন্দোলনকারীদের দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্বিচারে গুলির নির্দেশ দেওয়া।
কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে (এসপি) স্বশরীরে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোরভাবে বলপ্রয়োগ ও গুলি চালানোর নির্দেশ প্রদান করা।
কুষ্টিয়ার সেই রক্তক্ষয়ী দিন ও হতাহতের বিবরণ:
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে আওয়ামী লীগ, জাসদ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ হামলায় নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।
সেদিনের সেই রক্তক্ষয়ী হামলায় গুলিতে নিহত হন—শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। এ ছাড়া আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন বহু নিরীহ মানুষ। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) জমা দেয় প্রসিকিউশন। দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আজ এই রায়কে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে।


