সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট
সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট। পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের টানা তিন দিনের শুনানি শেষ হয়েছে। বিস্তারিত জানুন।
বাংলাদেশের সংবিধানে আবারও ফিরে এসেছে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি অবশেষে শেষ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে টানা তিন দিনব্যাপী এই মামলার দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত শুনানি শেষে আগামী ৯ জুলাই রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে, মূল রিট আবেদনকারীদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
কী ছিল পঞ্চদশ সংশোধনীতে?
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তত্ত্ববধানকারী সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সংসদে পাস করা হয়েছিল। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাই বাতিল করা হয়নি, বরং শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানসহ সংবিধানের মোট ৫৪টি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিল। একই সাথে বাতিল করা হয়েছিল যেকোনো জাতীয় বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়ার ‘গণভোট’ ব্যবস্থাটি।
প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই
গত ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই বিতর্কিত সংশোধনীটি বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি।
উভয় পক্ষের দীর্ঘ ও চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায় দেন। সেই রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বড় একটি অংশ (যার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের বিলোপ অন্তর্ভুক্ত ছিল) অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে, আজ তার শুনানি সমাপ্ত ঘোষণা করে রায়ের দিন নির্ধারণ করলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।


