বগুড়ায় অনলাইন জুয়ার কারবার, ডিজিটাল আলামতসহ গ্রেপ্তার ১
বগুড়ার গাবতলীতে অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত এক কথিত মাস্টার এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মোবাইল ফোন, অনলাইন জুয়ার অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং তথ্যসহ বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত উদ্ধার করা হয়
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত এক কথিত মাস্টার এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের বুরুজ বাজার থেকে কদমতলীগামী সড়কের বুরুজ বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের ব্রিজ এলাকায় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করছেন এবং বিভিন্ন জুয়াড়ির অ্যাকাউন্টে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করছেন।
এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই স্থান থেকে শ্রী সুষেন চন্দ্র রায় (৩০), পিতা- মৃত সুনীল চন্দ্র রায়, গ্রাম- কদমতলী (দড়িপাড়া), জেলা- বগুড়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে মাস্টার এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেফারেল লিংক প্রচার, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং তাদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার এ ধরনের কার্যক্রম তরুণ সমাজকে আর্থিক ও নৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ড চুরি, ছিনতাই ও মাদকাসক্তির মতো সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি Vivo Y17s অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, যেখানে 1xBet অ্যাপে ৮০ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ব্যালেন্স এবং একটি MobCash আইডিতে ৭ হাজার ৮৫২ টাকা জমা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া ফোনটিতে বিকাশ অ্যাপসহ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের তথ্যও উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া একটি Realme C25s অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ফোনটির ব্রাউজারে অনলাইন জুয়ার পার্টনার পোর্টাল ব্যবহার করে বিভিন্ন জুয়াড়ির অ্যাকাউন্ট পরিচালনার তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২০(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


