‘ভেদে মারেফাত’ নিয়ে মরহুম মওদুদী অনুসারীদের ওপেন ডিবেটের চ্যালেঞ্জ মুফতি ওমর ফারুক ইব্রাহীমীর

মাওলানা মওদুদীর স্খলন ঢাকতে চরমোনাইয়ের ‘ভেদে মারেফাত’ বই নিয়ে কাসুন্দি ঘাঁটার অভিযোগ তুলে জামাত সমর্থিত ওলামাদের প্রকাশ্য বাহাসের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন মুফতি ওমর ফারুক ইব্রাহীমী।

Jul 4, 2026 - 10:44
 0  7
‘ভেদে মারেফাত’ নিয়ে মরহুম মওদুদী অনুসারীদের ওপেন ডিবেটের চ্যালেঞ্জ মুফতি ওমর ফারুক ইব্রাহীমীর
×

‘মাওলানা সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদীর বিভিন্ন ধর্মীয় চিন্তাধারা ও কিতাব নিয়ে ইসলামি অঙ্গনে চলমান বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ-পাল্টা চ্যালেঞ্জের মধ্যে এবার নতুন মোড় এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মওদুদীর তাত্ত্বিক স্খলন নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানালেই পাল্টা হিসেবে চরমোনাইয়ের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক পুস্তিকা ‘ভেদে মারেফাত’ সামনে আনার কড়া সমালোচনা করেছেন বিশিষ্ট আলেম মুফতি ওমর ফারুক ইব্রাহীমী। একই সাথে এই পুস্তিকাটি নিয়ে জামাত সমর্থিত ওলামা ও মওদুদী অনুসারীদের সরাসরি মাঠের ইলমি ডিবেট বা দলিলের বাহাসে বসার ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মুফতি ওমর ফারুক ইব্রাহীমী মাওলানা মওদুদীর অনুসারীদের এই প্রবণতাকে মূল আলোচনা থেকে দৃষ্টি সরানোর অপচেষ্টা বলে অভিহিত করেন।

হিদায়াতের পথ দেখিয়েছে ভেদে মারেফাত:

​বিবৃতিতে মুফতি ওমর ফারুক ইব্রাহীমী ‘ভেদে মারেফাত’ বইটির ঐতিহাসিক ও বাস্তব প্রভাব তুলে ধরে বেশ কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি বলেন:

​“চরমোনাইয়ের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর ‘ভেদে মারেফাত’ কিতাবটি পড়ে আজ পর্যন্ত দুনিয়ার কোনো মানুষ কি দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়েছে? কেউ কি নামায-রোযা ছেড়ে দিয়েছে? কোনো নবী কিংবা সাহাবির শানে বিন্দুমাত্র গোস্তাখি (অমর্যাদা) করেছে? দাড়িতে হাত লাগিয়েছে কিংবা সুন্নতি লেবাস বাদ দিয়ে ইংরেজদের বেশভূষা গ্রহণ করেছে? প্রশ্নই আসে না। বরং বাস্তব ইতিহাস হলো, এই ছোট্ট পুস্তিকাটি পড়ার পর লাখো-কোটি আল্লাহ-ভোলা বনী আদম হিদায়াতের সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছে, গুনাহের পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে এসেছে।”

মওদুদীর স্খলন ঢাকতে কাসুন্দি ঘাঁটার অভিযোগ ও ডিবেটের ডাক:

​মুফতি ওমর ফারুক ইব্রাহীমী অভিযোগ করে বলেন, এই কিতাবটির মাধ্যমে মানুষ দ্বীনদার হলেও জামাত ও মওদূদিবাদী ভাইদের এ নিয়ে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে। তিনি বলেন, “যখনই মাওলানা মওদুদীর কোনো আদর্শিক স্খলন, খেয়ানত কিংবা কিতাবের ভুল নিয়ে আমরা তথ্য ও দলিলভিত্তিক ইলমি আলোচনার আহ্বান জানাই, তখনই তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে এই পুরনো কাসুন্দিটি নিয়ে হাজির হয়ে যান।”

​এই অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে সরাসরি মওদুদীর অনুসারীদের বাহাসের ময়দানে আহ্বান জানিয়ে মুফতি ওমর ফারুক ইব্রাহীমী তাঁর ওল্টো চ্যালেঞ্জে বলেন:

​“আমি পরিষ্কার ভাষায় বলছি, আচ্ছা—যেহেতু এই ক্ষুদ্র রিসালা (পুস্তিকা) নিয়ে আপনাদের এতই মাথাব্যথা, তাহলে চলেন এই সুনির্দিষ্ট বিষয়েই সরাসরি একটি উন্মুক্ত ইলমি ডিবেট হয়ে যাক! আছেন কি কোনো মওদুদীর উম্মত বা অনুসারী, যিনি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে দলিলের টেবিলে বসবেন?”

ইসলামি অঙ্গনে নতুন উত্তাপ:

​মুফতি রেজাউল করীম আবরার ও মুফতি আলী হাসান ওসামার মধ্যকার প্রস্তাবিত বাহাসের রেশ কাটতে না কাটতেই মুফতি ওমর ফারুক ইব্রাহীমীর এই নতুন ওল্টো চ্যালেঞ্জ ইসলামি অঙ্গনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কওমি ওলামাদের একের পর এক আক্রমণাত্মক ও দলিলভিত্তিক চ্যালেঞ্জের মুখে জামাতপন্থী ও মওদুদী ঘরানার ওলামারা শেষ পর্যন্ত ‘ভেদে মারেফাত’ কিংবা ‘সাহাবা সমালোচনা’র টেবিলে বসেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।