ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকার ইতিমধ্যে জাতীয় কমিটি গঠন করেছে বলে জানান তিনি।

Jul 2, 2026 - 10:50
 0  5
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল
×

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত যেকোনো মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “সরকার ইতিমধ্যে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করেছে এবং সেই কমিটি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।” একই সাথে তিনি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অনলাইনভিত্তিক আধুনিক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা আরও জোরদার করার তাগিদ দেন।

​গত বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘ইম্প্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিস প্রজেক্ট’ (IUPHPSP) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও বাজেট:

সেমিনারে বক্তারা জানান, আইইউপিএইচপিএসপি (IUPHPSP) হলো বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত একটি যুগান্তকারী জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্প। বিশ্বব্যাংকের (World Bank) আর্থিক অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশের শহরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা ও চিকিৎসাব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন ও নগর এলাকাগুলোতে প্রতিরোধমূলক জনস্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এই প্রকল্প কাজ করছে।

মশার লার্ভা ধ্বংসে সামাজিক আন্দোলন:

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা ইতিমধ্যে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা ধারাবাহিকভাবে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করছেন। আমি আশা করি, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পটিও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল ভূমিকা রাখবে।”

​তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরও অসাবধানতাবশত বাসাবাড়িতে মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু লার্ভিসাইড ছিটিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; এর জন্য জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিরোধমূলক আচরণ গড়ে তুলতে আমাদের অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিজিটাল প্রচারণা বাড়াতে হবে।”

​মন্ত্রী আরও যোগ করেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য, নগর পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আন্তরিক। তিনি একটি পরিচ্ছন্ন শহর ও সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা সম্মিলিতভাবে সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছি।”

সেমিনারে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ:

উক্ত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ও প্যানেলিস্ট হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন:

​ডা. শাহাদাত হোসেন, মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

​মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রশাসক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।

​মো. মাহমুদুল হাসান, এনডিসি, মহাপরিচালক, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগ।

​আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান, প্রকল্প পরিচালক (পিডি), আইইউপিএইচপিএসপি।

​সেমিনারে উপস্থিত বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের প্রধান প্রধান নগরীগুলোতে ডেঙ্গুর হটস্পট চিহ্নিত করে দ্রুত ক্রাশ প্রোগ্রাম চালুর বিষয়ে একমত পোষণ করেন।