"জনপ্রতিনিধিদের চরম ব্যর্থতার কারণেই ঢাকা আজ বসবাসযোগ্যতার তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে" — শেখ ফজলুল করিম মারুফ
জনপ্রতিনিধিদের চরম ব্যর্থতার কারণেই ঢাকা আজ বসবাসযোগ্যতার তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও আইএবি মনোনীত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলুল করিম মারুফ।
"জনপ্রতিনিধিদের চরম ব্যর্থতার কারণেই ঢাকা আজ বসবাসযোগ্যতার তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।" ঢাকা সিটির চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এই মন্তব্য করেছেন আইএবি মনোনীত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করিম মারুফ।
আজ ১১ জুলাই ২০২৬, শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় আইএবি কোতোয়ালী থানা শাখার কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ 'সদস্য তারবিয়ত' প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অন্তর্গত কোতোয়ালী থানা শাখার উদ্যোগে এই সাংগঠনিক প্রোগ্রামটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
বক্তব্যে ঢাকা সিটির নাগরিক দুর্ভোগ তুলে ধরে শেখ ফজলুল করিম মারুফ বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা অচল হয়ে যায়। আজ চট্টগ্রাম তলিয়ে গেছে, অনেকে ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুর্যোগে শুধু ত্রাণ বিতরণই সমাধান নয়, বরং জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান ও সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এই দুরবস্থার জন্য রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করা শিখতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করে তিনি ঢাকাকে একটি আধুনিক ও প্রকৃত অর্থেই বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এর আগে বক্তব্যের শুরুতে তিনি সাংগঠনিক ও আদর্শিক কাঠামোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের মূল ভিত্তিই হলো সর্বোচ্চ শরীয়াহর বিধান প্রতিষ্ঠা করা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে এই আদর্শে অবিচল থাকা। নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা অর্জনের মধ্য দিয়ে সমাজ সংস্কার করাই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এবং কর্মীদের সেই লক্ষ্যেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাংগঠনিক মজবুতি ও কর্মীদের আত্মিক মানোন্নয়নের তাগিদ দিয়ে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সদস্য এবং আইএবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম শরিয়াতুল্লাহ। কর্মীদের চরিত্র ও আখলাক গঠনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি কর্মীকে সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে এক একটি জীবন্ত দাওয়াতনামা হতে হবে। আমাদের আচার-ব্যবহার, সততা ও উন্নত নৈতিকতা দেখে মানুষ যেন মুগ্ধ হয়ে আনুষ্ঠানিক দাওয়াত ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই সংগঠনে যোগ দেয়। আমাদের জীবনের প্রতিটি অংশই যেন ইসলামের দাওয়াতের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
একই সাথে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম (রহ.)-এর দেওয়া সবক—বিশেষ করে নিয়মিত দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা, দলীয় ফান্ডে অবদান এবং আত্মশুদ্ধির আমলগুলো কর্মীদের দৃঢ়ভাবে অনুসরণের তাগিদ দেন তিনি। সেই সাথে কর্মীদের দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রতি সপ্তাহে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে দাওয়াতী কাজ করার আহ্বান জানান।
কোতোয়ালী থানা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর বক্তব্যে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কর্মীকে মাঠপর্যায়ে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করতে হবে। সমাজে নৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে হলে তৃণমূলের সাংগঠনিক মজবুতির কোনো বিকল্প নেই।
উক্ত তারবিয়ত প্রোগ্রামে কোতোয়ালী থানা ও স্থানীয় বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক দায়িত্বশীল ও কর্মী অংশগ্রহণ করেন। সভার শেষে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাশেম সবাইকে আগামী দিনের দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


