বরিশালে শিয়াল হত্যা করে ফেসবুকে মাংস বিক্রির বিজ্ঞাপন
বরিশাল নগরীতে বন্যপ্রাণী শিয়াল হত্যা করে ফেসবুকে মাংস বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পশুপ্রেমী ও পরিবেশবাদীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে বন বিভাগ।
দেশের প্রচলিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বরিশাল মহানগরীতে একটি বন্যপ্রাণী শিয়াল নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার মাংস বিক্রির উন্মুক্ত বিজ্ঞাপন দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই অমানবিক ও বেআইনি ঘটনার ছবি ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পরিবেশবাদী, পশুপ্রেমী সংগঠন এবং সাধারণ সচেতন মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায় একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই ন্যক্কারজনক অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উঠে।
নেতৃত্বে নুরুল ইসলাম, ফেসবুকে ‘নাইম রাজ’:
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের সরাসরি নেতৃত্বে একদল লোক বন্যপ্রাণী শিয়ালটিকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। শিয়ালটিকে নৃশংসভাবে জবাই করার পর ‘নাইম রাজ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মৃত শিয়ালের রক্তাক্ত ছবি সংযুক্ত করে এর মাংস বিক্রির জন্য একটি প্রকাশ্য বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়, শাস্তির দাবি:
পোস্টটি ফেসবুকে আপলোডের মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেন ও পশুপ্রেমী সংগঠনগুলো এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করে। দেশের ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২’ লঘ্নন করে এভাবে প্রকাশ্যে বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা এবং তার মাংস বিক্রির প্রচারণা চালানো অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে ট্র্যাকিং করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।
ময়দানখোলা এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেশের আইন সম্পূর্ণ অমান্য করে প্রকাশ্যে একটি শিয়াল হত্যা করা হলো এবং বুক ফুলিয়ে সেই শিয়ালের মাংস বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো ফেসবুকের মতো জায়গায়! এমন জঘন্য অপকর্মের পরও এখন পর্যন্ত জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা অবিলম্বে এই চক্রটিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”
আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে বন বিভাগ:
বন্যপ্রাণী হত্যার এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নজরে আসার পর বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিয়াল হত্যা ও মাংস বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়ার বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছি এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে আমাদের রেঞ্জ কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে।”
পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে লোকালয়ের শিয়াল বা বন্যপ্রাণী হত্যা জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা আশা করছেন, দ্রুতই মূল অপরাধী নুরুল ইসলাম এবং ফেসবুক পোস্টদাতা ‘নাইম রাজ’কে আইনের আওতায় আনা হবে।


