১ বছর আগের ঘটনা নিয়ে শিবিরের পোস্ট 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগাণ্ডা' ও আদর্শিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ

সরকারি তিতুমীর কলেজের হলের সিট বণ্টন ও ৩৯ লাখ টাকার হিসাব নিয়ে ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতাদের করা পোস্ট ও প্রতিবেদনকে অপপ্রচার দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন।

Jul 8, 2026 - 06:03
 0  4
১ বছর আগের ঘটনা নিয়ে শিবিরের পোস্ট 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগাণ্ডা' ও আদর্শিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ
×

সরকারি তিতুমীর কলেজের আবাসিক হলের সিট বণ্টন ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির এবং একটি অনলাইন পোর্টালের ছড়ানো তথ্যকে "মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগাণ্ডা" বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। সংবাদমাধ্যমে তিতুমীর কলেজ ছাত্র আন্দোলনের কোনো বক্তব্য না নিয়ে, ১ বছর আগের একটি মীমাংসিত ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার প্রতিবাদে সংগঠনটির পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

​ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইমরান হোসাইন নূর এক ফেসবুক পোস্টে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত অনলাইন পোর্টাল 'দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস'-এ প্রথমে "মিথ্যা ও অপতথ্যে ভরা" একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই নিউজটিতে পরবর্তীতে ছাত্রশিবিরের মিডিয়া উইংয়ের স্টিকার যুক্ত করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ শীর্ষ দায়িত্বশীলরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন, যা তাঁদের আদর্শিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ।

​ঘটনার বিবরণ দিয়ে ইমরান হোসাইন নূর বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে হল প্রশাসন সব ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা আহ্বান করে। উক্ত সভায় ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রশিবির যৌথভাবে মেধা ও দারিদ্র্যের ভিত্তিতে সিট বণ্টনের দাবি জানালেও ছাত্রদলের বিরোধিতার কারণে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট বণ্টন প্রক্রিয়া শুরু হলে ছাত্রদল বড় অংশ এবং ছাত্রশিবির দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশ বরাদ্দ পায়। ছাত্রশিবির চাহিদার তুলনায় কম পাওয়ায় তা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিলেও, বাস্তবে তারা কৌশলে ছাত্রদলের বণ্টিত রুমে নিজেদের জনশক্তি তুলে দিতে সক্ষম হয়।

​ছাত্র আন্দোলনের অবস্থান স্পষ্ট করে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি দাবি করেন, তাদের কর্মীরা হলের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দখলদারিত্বে জড়াতে চায়নি। তবে সাধারণ নিয়ম মেনে কিছু শিক্ষার্থী প্রশাসনের কাছে আবেদন করলে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে মাত্র ৮টি সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা হল প্রশাসন কর্তৃক সম্পূর্ণ বৈধ। ছাত্র আন্দোলনের কোনো কর্মী অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিউজে ৩৯ লক্ষ টাকার একটি কাল্পনিক হিসাব এনে হাস্যরসের জন্ম দেওয়া হয়েছে।

​ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে মেধা ও অধিকার আদায়ের রাজনীতিতে বিশ্বাসী; হল বাণিজ্য, সিট দখল বা অবৈধ আয়ের মতো কোনো কর্মকাণ্ড সংগঠনটির কাম্য নয়। ১ বছর আগের ঘটনা নিয়ে হঠাৎ করে এমন বিকৃত নিউজ প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইমরান হোসাইন নূর ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীলদের এই ধরনের অপ-সাংবাদিকতা থেকে বিরত থাকার এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।