ডেঙ্গু প্রতিরোধে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন
সারাদেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ১৯ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে।
বর্ষা মৌসুমের শুরুতে দেশব্যাপী ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ হিসেবে একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) ডেঙ্গু প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কমিটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সভায় সর্বসম্মতভাবে এই টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নবগঠিত ১৯ সদস্যের এই উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
টাস্কফোর্সের মূল কার্যপরিধি:
কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তগুলো দ্রুততম সময়ে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এই টাস্কফোর্স কাজ করবে। এর প্রধান কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে—
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কমিটির নেওয়া যাবতীয় সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্পৃক্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সেবা সংস্থার মধ্যে কাজের আন্তঃসমন্বয় করা।
মাঠ পর্যায়ের কাজের বাস্তব অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করে জাতীয় কমিটিকে অবহিত করা।
মাঠ পর্যায়ে মশা নিধন বা চিকিৎসাসেবা বাস্তবায়নে কোনো প্রশাসনিক সমস্যা বা জটিলতা দেখা দিলে তা নিরসনে তাৎক্ষণিক কার্যকর ভূমিকা রাখা।
কমিটির গঠন ও সদস্যবৃন্দ:
জনস্বার্থে গঠিত ১৯ সদস্যের এই শক্তিশালী টাস্কফোর্সে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন— স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের প্রতিনিধি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, দুই সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা।
এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এই কমিটিতে যুক্ত আছেন।
একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে আইনগত ও অবকাঠামোগত তদারকি বাড়াতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রকল্পের প্রতিনিধিরাও এই টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। টাস্কফোর্সের সদস্যসচিব হিসেবে সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন-২ শাখার উপসচিব।
আজকের সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেন, এই উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কেটে যাবে এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে একটি সমন্বিত, গতিশীল ও কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান হবে।


