হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৮৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৮৯ জন শিশু হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

Jun 24, 2026 - 17:59
 0  2
হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৮৯
×

দেশজুড়ে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে আরও ৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৯ জনের শরীরে হাম ও এর নানা উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

​আজ বুধবার (২৪ জুন) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

​প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হলেও ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​মোট প্রাণহানি ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের এই প্রাদুর্ভাবে আজ পর্যন্ত সারা দেশে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৯৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

​অন্যদিকে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম (Measles) শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৩টি শিশু। সব মিলিয়ে গত ৩ মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৬৮৯টি শিশুর করুণ মৃত্যু হলো।

​বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৮৯ জনের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৩ জনের শরীরে এবং বাকি ৯১৬ জনের মধ্যে রোগটির তীব্র উপসর্গ দেখা গেছে। প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৫ হাজার ৭৬০ জন এবং নিশ্চিত ল্যাব-পরীক্ষিত রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৩৯০ জন।

হাসপাতালের চিত্র:

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ৬৩৭ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে ৭৫ হাজার ৮৮২ জন শিশু।

​স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের হামের জটিলতা থেকে রক্ষা করতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ‘হাম-রুবেলা (MR)’ টিকা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন। একই সাথে শিশুর শরীরে উচ্চ জ্বর, লালচে ফুসকুড়ি বা দানা দেখা দিলে কোনো ধরনের অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।