চার সপ্তাহে রেমিট্যান্স এলো ২৫৯ কোটি ডলার
চলতি জুন মাসের প্রথম ২৮ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বছর ব্যবধানে সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৭.৬০ শতাংশ।
অর্থনৈতিক নানা বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার (রেমিট্যান্স) সুবাতাস অব্যাহত রয়েছে। চলতি জুন মাসের প্রথম ২৮ দিনেই ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এই হিসাবে জুন মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার করে দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।
আজ সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বছর ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির চিত্র:
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, চলতি জুন মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে ২৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের (২০২৫) একই সময়ে ছিল ২৫৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাসভিত্তিক তুলনায় বছর ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩ হাজার ৫৩৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সামগ্রিক রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ প্রায় ১৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।
গত কয়েক মাসের রেমিট্যান্সের ধারা:
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহে ব্যাপক গতি এসেছে।
মে ২০২৬: দেশে এসেছিল ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।
এপ্রিল ২০২৬: রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার।
মার্চ ২০২৬: প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার— যা বাংলাদেশের ইতিহাসে যেকোনো একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স অর্জনের সর্বকালীন রেকর্ড।
জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি ২০২৬: এই দুই মাসে যথাক্রমে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার এবং ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার দেশে এসেছে।
অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ও অফিশিয়াল ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। এটি সরকারের আমদানি ব্যয় মেটানো, ডলার সংকট দূরীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


