হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করলো ইরান
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত।
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার (১২ জুলাই) দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ কিংবা ‘অবৈধ নৌপথ’ ব্যবহার করে চলাচলের যেকোনো অপচেষ্টা এখন থেকে কঠোর ও সামরিকভাবে প্রতিহত করা হবে।
সতর্কতামূলক গুলি ও জাহাজ আটক
ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার না করে এবং দিক-নির্দেশনা অমান্য করে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট জাহাজ নিজের আন্তর্জাতিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা (জিপিএস ও নেভিগেশন) সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে। পরবর্তীতে আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হলে সন্দেহভাজন জাহাজটি সাগরে থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হয়।
মার্কিন উপস্থিতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা
এই কঠোর সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আমেরিকার দিকে ইঙ্গিত করে আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিদেশি বা বাণিজ্যিক জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তারা হুশিয়ারি দিয়ে জানায়, ভবিষ্যতে নতুন করে আর কোনো নিয়ম লঙ্ঘন বা জলসীমায় হামলার ঘটনা ঘটলে তার অত্যন্ত কঠোর ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সিংহভাগ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই সারাবিশ্বে পরিবাহিত হয়। ফলে ইরানের এই আকস্মিক ও কঠোর সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।


