আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড এবং তিন কর্মকর্তার যাবজ্জীবনের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল; এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম রায়।

Apr 9, 2026 - 13:32
 0  2
আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা
×

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ এবং রংপুরের বীর সন্তান আবু সাঈদ হত্যার দায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া মামলার বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন প্রাপ্তরা

​রায়ে সরাসরি গুলি বর্ষণের দায়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা এবং হত্যার নির্দেশে জড়িত থাকার অপরাধে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন:

​আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন: সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন)।

​রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন: সাবেক অফিসার ইনচার্জ, তাজহাট থানা।

​বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব: বেরোবির সাবেক পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ।

ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ

​বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্যানেল রায়ে উল্লেখ করেন, নিরস্ত্র আবু সাঈদকে যেভাবে সরাসরি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, তা কেবল হত্যাকাণ্ড নয় বরং এটি ছিল একটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। দুপুর সোয়া ১২টা থেকে রায়ের অংশ পাঠ শুরু হয় এবং পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

শহীদ আবু সাঈদের বীরত্ব

​গত বছরের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের অস্ত্রের মুখে বুক পেতে দিয়ে অকুতোভয় বীরত্ব প্রদর্শন করেছিলেন আবু সাঈদ। তাঁর সেই শাহাদাতের ভিডিও চিত্রটি পুরো দেশের মানুষকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজকের এই রায়ের মাধ্যমে শহীদ সাঈদের রক্তঋণ কিছুটা হলেও শোধ হলো বলে মনে করছেন ছাত্র-জনতা।

বেরোবির দুই শিক্ষকের কারাদণ্ড

​একই মামলার রায়ে উসকানিদাতা হিসেবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান এবং লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মোট ৩৩ জন আসামির মধ্যে ৩০ জনের সাজা হওয়ার এই ঘটনাকে ন্যায়বিচারের এক অনন্য নজির হিসেবে দেখছেন আইনবিদরা।