‘২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীতকরণের কাজ চলছে’: অর্থমন্ত্রী
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; ব্যাংকিং শৃঙ্খলা ও পাচার করা অর্থ ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা।
আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।
ব্যাংকিং খাত ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে পরিকল্পনা
বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ব্যাংকিং খাতে মূলধন ফেরাতে এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকার শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা। একইসঙ্গে বিগত সময়ে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।” তিনি বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা জানান।
জ্বালানি ও বিশ্ববাজার পরিস্থিতি
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম দ্বিগুণ বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “জনগণের ভোগান্তি কমাতে ভর্তুকি দিয়ে হলেও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করেনি সরকার। যুদ্ধের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমরা সামনে এগোচ্ছি।”
বিগত সরকারের সমালোচনা ও অর্থনীতির ক্ষত
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে আমীর খসরু বলেন, “বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার লাগামহীন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। গত ১৫ বছরে টাকার মান অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। আওয়ামী আমলে মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট হওয়ায় বিনিয়োগের সুফল জনগণ পায়নি।” তিনি আরও জানান, সরকারি ঋণের উচ্চ সুদ ও অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বাজেটে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করি। বিগত সরকারের মাথাপিছু আয়ের বিতর্কিত সংখ্যা সরিয়ে প্রকৃত অর্থনৈতিক চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। হুন্ডির বদলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আনতে কাজ করছে সরকার।”


