‘দল বাঁচাতে’ শীর্ষ নেতাদের দেশে ফিরতে বলছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর অস্তিত্ব সংকটে আওয়ামী লীগ; দল বাঁচাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফেরার আহ্বান তৃণমূল নেতা-কর্মীদের।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে আওয়ামী লীগ। বিদেশের নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে দল পরিচালনা করা এখন আর সম্ভব নয় বলে মনে করছেন দলটির মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। দলটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হলে কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের এখন গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে হলেও দেশে ফেরা প্রয়োজন বলে দাবি তুলেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের সাক্ষাৎকারে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে।
তৃণমূলের প্রত্যাশা ও বর্তমান বাস্তবতা
তৃণমূলের অনেক নেতার ধারণা ছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করলে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বা কড়াকড়ি শিথিল হবে। ঢাকার বাইরের একটি উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুল ইসলাম (ছদ্মনাম) জানান, “আশা করেছিলাম গণতান্ত্রিক সরকার আসলে হয়তো এলাকায় ফেরার ও সাংগঠনিক কাজ শুরু করার সুযোগ পাবো। কিন্তু ভোটের পর বাস্তবতা পুরোপুরি বদলে গেছে। অবস্থা আগের মতোই প্রতিকূল রয়ে গেছে।” মূলত নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত নমনীয় থাকায় এই আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, যা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে।
সাংগঠনিক স্থবিরতা ও পরিত্যক্ত কার্যালয়
গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর খুলনা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার কিছু ঝটিকা চেষ্টা দেখা গিয়েছিল। খুলনার হাদিস পার্কে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। কিন্তু খবর ছড়িয়ে পড়লে পুনরায় হামলার শিকার হয় কার্যালয়গুলো। বর্তমানে সারা দেশে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় নেতাদের ভাষায়, আপাতত ‘আত্মগোপনে থেকে নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা’ করাই এখন প্রধান দলীয় কাজ।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি চাপ
মাঠপর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, শীর্ষ নেতারা সামনে না থাকলে কর্মীদের চাঙ্গা করা অসম্ভব। তাঁদের মতে, ঢাকা দখল করতে না পারলে তৃণমূল দখল করে লাভ নেই, আর ঢাকার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জরুরি। তৃণমূলের এই চাপের মুখে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম জানান, নেতারা উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় আছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ–সংক্রান্ত বিল পাসের পর দেশে কি কোনো নেতা-কর্মীর রাজনীতি করার সুযোগ আছে?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একদিকে সংসদে পাস হওয়া নতুন আইন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের সংকট কাটছে না। দল বাঁচাতে তৃণমূল নেতারা শীর্ষ নেতাদের দেশে ফেরার আহ্বান জানালেও আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে সেই সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। ফলে দলটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চয়তায় ঘেরা এবং কর্মীদের মধ্যে হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।


