লেবাননে হামলার পর ফের বন্ধ হরমুজ প্রণালি: দাবি ইরানি সংবাদমাধ্যমের
লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ করে দিয়েছে ইরান; অনিশ্চয়তায় পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য ও ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতি।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ ফের বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র এক দিনের মাথায় এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে।
‘অরোরা’ ট্যাংকার ও অবরুদ্ধ জলপথ
প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানামার পতাকাবাহী ‘অরোরা’ নামের একটি বড় অয়েলি ট্যাংকার পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে আরব সাগরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বাধা পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। গ্রিসভিত্তিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে পারস্য উপসাগরে নোঙর করে আছে। উল্লেখ্য যে, এই ‘অরোরা’ জাহাজটি ইরানি তেল পরিবহনের অভিযোগে আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ও ইরানের হুঁশিয়ারি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা যুদ্ধের ৪০তম দিনে এসে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ওয়াশিংটন ও তেহরান। শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও বুধবার লেবাননে ইসরায়েলের ‘১০০ বিমান হামলা’য় ইরান চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, “ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা অথবা ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করা— যুক্তরাষ্ট্রকে এখন এই দুটির একটি বেছে নিতে হবে।”
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ বলা হয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাসের ২০ শতাংশই এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ৪০ দিনের যুদ্ধে এই রুট বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছিল। যুদ্ধবিরতির ফলে তেলের বাজারে যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছিল, পুনরায় অবরোধের ফলে তা আবারও ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
দাপ্তরিক বিবৃতির অপেক্ষা
যদিও প্রেস টিভি ও মেরিন ট্রাফিক এই অবরোধের খবর দিয়েছে, তবে ইরান সরকার বা দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ (IRGC) থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক বিবৃতি আসেনি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে ইরান এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি আলোচনাকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দেবে।


