যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সৌদির তেল পাইপলাইনে ইরানের হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও সৌদি আরবের একমাত্র সচল তেল পাইপলাইনে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান; ব্যাহত হতে পারে দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘পূর্ব-পশ্চিম’ (East-West) তেল পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে ইরান। বর্তমানে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির একমাত্র সচল মাধ্যম ছিল এই পাইপলাইনটি। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল পাইপলাইনই নয়, সৌদি আরবের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান। এই হামলার ফলে পাইপলাইনটি দিয়ে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আরামকো’ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
পাইপলাইনের গুরুত্ব ও সক্ষমতা
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকটে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব তাদের পূর্বাঞ্চলীয় তেলসমৃদ্ধ এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ‘ইয়ানবু’ বন্দরে সরিয়ে নিচ্ছিল। আরামকোর তথ্যমতে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল তেল অভ্যন্তরীণ কাজে এবং বাকি ৫০ লাখ ব্যারেল রপ্তানির জন্য ব্যবহার করা হয়। গত ২৩ মার্চ থেকে ইয়ানবু বন্দর দিয়ে দৈনিক গড়ে ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল পাঠানো হচ্ছিল, যা ছিল এর সর্বোচ্চ সক্ষমতার কাছাকাছি।
যুদ্ধবিরতি ও বৈশ্বিক প্রভাব
গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং সৌদি আরবের এই পাইপলাইনে ইরানের পাল্টা আঘাতের ফলে সেই শান্তি প্রক্রিয়া এখন চরম হুমকির মুখে। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, এই পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তেলের বাজারে অস্থিরতা
রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও লাফিয়ে বাড়ছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানানো না হলেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এই হামলা কেবল সৌদি আরব নয়, বরং পুরো পশ্চিমা বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।


