ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বাহরাইনেও বড় বিস্ফোরণ
ইরান থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের চরম উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল ও বাহরাইনের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার (১৫ মার্চ, ২০২৬) ইরানের অভ্যন্তর থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। হামলার পরপরই পুরো ইসরায়েল জুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
ইসরায়েলের পরিস্থিতি ও আইডিএফ-এর তৎপরতা:
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আকাশপথে আসা বিশাল হুমকি মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে। নাগরিকদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী তেল আবিবের বেশ কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলি পুলিশ ও বোমা বিশেষজ্ঞ দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো নিহতের খবর না পাওয়া গেলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে।
বাহরাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও হতাহত:
এদিকে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় আজ ভোরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বাহরাইন কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা ইরানের ছুড়ে দেওয়া এ পর্যন্ত ১২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। তবে এই সংঘাতের রেশ ধরে বাহরাইনে এ পর্যন্ত ২ জন এবং পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোয় আরও ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও সতর্কতা:
হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগের পরামর্শ দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই সরাসরি হামলা যুদ্ধের মোড়কে আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।


